শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮


নৃশংস গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী আজ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: ২১ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশ স্থলে গ্রেনেড হামলার ১৭তম বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের এই দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ২৪ জন নিহত এবং অন্তত তিন শ’ আহত হয়। ২০১৮ সালের অক্টোবরে এই মামলায় বিচারিক আদালত ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় প্রদান করেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের নৃশংস ঘটনার পর ওই সময় মতিঝিল থানায় মামলা হয়। প্রথমে মামলাটির তদন্ত করেন মতিঝিল থানার এসআই আমির হোসেন। পরে মামলাটি ডিবি পুলিশে স্থানান্তর হলে মামলার তদন্ত করেন ডিবির ইন্সপেক্টর মো: শামসুল ইসলাম। পরে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর হয়। সিআইডিতে স্থানান্তরের পর মামলার তদন্তের দায়িত্ব ন্যস্ত হয় তৎকালীন এএসপি আব্দুর রশিদ এবং মুন্সি আতিকের ওপর। এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তদন্ত করেন সিআইডির এএসপি ফজলুল কবির। তিনি ২০০৮ সালের ১১ জুন ওই মামলায় ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে মামলা দু’টির অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। অধিকতর তদন্ত শেষে সিআইডির এসএস আব্দুল কাহহার আকন্দ ২০১১ সালের জুলাই মাসে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট প্রদান করেন। ইতোমধ্যে ২১ আগস্টের ঘটনায় মুফতি হান্নানসহ ৮ হরকাতুল জিহাদ সদস্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আদালতে দাখিলকৃত আবেদনে গ্রেনেডের উৎস এবং এ ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে তা জানার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। এর আগে সিআইডি কর্মকর্তা ফজলুল কবিরের দেয়া চার্জশিটে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু,  আব্দুল হান্নান, তার ভাই মফিজুর রহমান ওরফে অভি, পিন্টুর ছোট ভাই  তাজউদ্দিন, আবু তাহের, শরীফ শাহিদুল ইসলাম ওরফে বিপুল, আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফর, মঈন ওরফে আবু জান্দাল, আবুল কালাম বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আব্দুর রাজ্জাক, আনিসুল মুরসালিন ওরফে সুজন, তার ভাই মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে শাহীন, হোসাইন আহম্মেদ ওরফে তামিম, শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, ইকবাল, আবু বকর, লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার, রফিকুল ইসলাম গাজী ওরফে শফিক ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে সবুজ ওরফে রতন, উজ্জ্বল ওরফে রতন, জাহাঙ্গির হোসেন ওরফে জাহাঙ্গির বদর ও খলিলুর রহমান ওরফে খলিলকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ফজলুল কবিরের চার্জশিটে ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও আরো ৬ জন জড়িত থাকার তথ্য ছিল। তাদের মধ্যে দু’জন মারা যাওয়া এবং বাকি চারজনের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ না থাকায় চার্জশিট থেকে তাদেরকে বাদ দেয়া হয়। ওই সময় মুরসালিন এবং মুত্তাকিন ভারতের কারাগারে বন্দী ছিল।