আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: ভুয়া কোম্পানির নামে ঋণ নিয়ে ফাস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
কম্পিউটারে নামসর্বস্ব ২০টি কোম্পানির প্যাড বানানো হয়েছে। আদতে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্বই নেই। ভুয়া এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ আবেদন করে ফাস ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। দুদকের অনুসন্ধানে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ১২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এ জালিয়াতির তথ্য।
ফাস ফিন্যান্স ইনভেস্টম্যান্ট লিমিটেড একসময় শক্ত অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিলো। ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে বিপাকে পড়ে। এই টাকা আর ফেরত আসে না। গ্রাহকের আমানতের টাকা দিতেও হিমশিম খায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি। পরে ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ এনে প্রতিষ্ঠানটির ওপর দুদকে একটি প্রতিবেদন পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই প্রতিবেদনের আলোকে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
সম্প্রতি দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, বর্ণ এন্টারপ্রাইজ, এনবি, মেরিন ট্রাস্ট, মুন ইন্টারন্যাশনাল, হাল ইন্টারন্যাশনাল, দ্রিনান এন্টারপ্রাইজসহ ২০টি প্রতিষ্ঠানের নামে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফাস ফিন্যান্স থেকে ঋণের নামে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। যেসব কোম্পানির প্যাড ব্যবহার করা হয়েছে তার সবই ভুয়া।
এই জালিয়াতির ঘটনায় সোমবার প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক নিয়াজ আহমেদ ফারুকী, দীপক কুমার চক্রবর্তীসহ ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে একটি টিম। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলেছেন, পরিচালনা পর্ষদসহ ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে ঋণ দেয়া হয়েছে।
দুদক সচিব জানিয়েছেন, জালিয়াতির তথ্যপ্রমাণ এখন তাদের হাতে। এ ঘটনায় পলাতক পিকে হালদারের দায় আছে কি-না তাও খতিয়ে দেখছে দুদক।
-এটি