বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ ।। ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৮ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
‘লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ব্যতীত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়’ বর্তমান সমাজে বিয়েকে ক্রমেই কঠিন করে তোলা হচ্ছে কালভার্ট নির্মাণকালে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু আগস্টের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস ও জুতা বিতরণ শুরু করবে সরকার: ববি হাজ্জাজ আগামী ৭ জুন রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ পুলিশ কর্মকর্তা হজ-পরবর্তী জীবনে পরিবর্তন না এলে হজের শিক্ষা অপূর্ণ: শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্নে কোনো আপস করা উচিত নয়’ ৩ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার

ওয়ারিশদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা: ইসলামের হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নাজমুল হাসান সাকিব।।

জায়গা-জমির বিরোধ আমাদের দেশে অহরহ ঘটে। মৃত ব্যক্তির ছোট সন্তানদের তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা, নারীদের তাদের হক থেকে বঞ্চিত করার মতো ঘটনাও ঘটে। জায়গা-জমির বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে নানা ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা। হত্যার মতো ঘটনাও পত্রিকার পাতায় দেখা যায়।

সবচেয়ে বেশি ঘটে নারীদের ক্ষেত্রে। তাদের সম্পত্তি না দেয়া দোষনীয় মনে করা হয় না। বাবার সম্পত্তি মেয়ের প্রাপ্য একথাও স্বীকার করে না অনেকে। অথচ ইসলামে বাবার সম্পত্তিতে নারীর পূর্ণ হক দেয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে কে কতটুকু পাবে সেটাও স্পষ্ট।

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের উপর দুই ধরণের হক রয়েছে। এক, আল্লাহর হক। দুই, বান্দার হক। এই দুটি হকের মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে - আল্লাহর হক। আর সবচেয়ে জটিল হচ্ছে - বান্দার হক। মানুষ যদি আল্লাহর কোন হক নষ্ট করে তাহলে আল্লাহ ইচ্ছা করলে তা মাফ করে দেন। পক্ষান্তরে কেউ যদি মানুষের হক নষ্ট করে তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ বান্দা তা মাফ না করবেন ততক্ষণ স্বয়ং আল্লাহও মাফ করবেন না।

মূলত এই জন্যেই ইসলামে বান্দার হককে এতো গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এক হাদিসে নবিজি সা. বলেন, আল্লাহ তায়ালা শহীদের যাবতীয় অন্যায় মাফ করে দেন। কিন্তু ঋণ মাফ করবেন না। কেননা, এটা বান্দার হক। (...)

এখানে ভেবে দেখার বিষয় হচ্ছে, একজন শহীদ যার সকল অপরাধ মাফ করে দেয়া হয়। শাহাদাত বরণের সাথে সাথে যে জান্নাতে প্রবেশ করে। তার ক্ষেত্রে যদি বিষয়টি এমন হয় যে, সাধারণ একজন মানুষের হক নষ্ট করার অপরাধ আল্লাহ মাফ করবেন না; তাহলে সাধারণ একজন মানুষ যদি কোন মানুষের হক নষ্ট করে তাহলে কী অবস্থা হবে?

তার পরিণতি কতটুকু ভয়াবহ আর ভয়ানক হবে তা কল্পনাও করা যায় না। মানুষ যেন এই পরিণতির শিকার না হয় এজন্য আল্লাহ তায়ালা সতর্ক করেছেন। বলেছেন, আর যারা অন্যায়ভাবে এতীমদের সম্পদ আত্নসাৎ করে তারা মূলত তাদের পেটে আগুন ঢুকাচ্ছে। অচিরেই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। (সুরা নিসা: আয়াত ১০)

হযরত আয়েশা সিদ্দিকী রা. সূত্রে বর্ণিত, মহানবি সা. বলেছেন- যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো এক বিঘত পরিমাণ সম্পত্তি ভোগ করবে, কিয়ামতের দিন সাত তবর (স্তর) জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দেয়া হবে। (বুখারী ২৪৫৩, মুসলিম ১৬১২)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন। বান্দার হক নষ্ট করা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ