আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: করোনা সংক্রমণ সমাজে ছড়িয়ে পড়লে, যে পরিমাণ লোক আক্রান্ত হবে, তাদের সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম।
শুক্রবার (২৫ জুন) রাত ১১টায় ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট এর উদ্যোগে ‘চিকিৎসায় অবহেলা আইন এবং চিকিৎসক হয়রানি: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশিদ আলম বলেন, সোমবার (২৮ জুন) থেকে সারাদেশে লোকডাউনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির যে অবস্থা, সেটার জন্যেও আমরা অনেক কথা শুনছি। আমাদের সক্ষমতার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। সক্ষমতাতো আর রাবার না, রাবারও একসময় আর বড় হয় না। আমাদের ১০টা বেড ছিল, সেখান থেকে ২০ বেড, এরপর ৪০, ৬০ এবং ১০০ বেড করা হয়েছে। এরপর কি হবে। হাজার হাজার লোক সংক্রমিত হচ্ছে। প্রথম দিকে আমাদের যে সক্ষমতা ছিল, তার থেকে অনেক বেশি সক্ষমতা এখন হয়েছে। তারপরেও সংক্রমণের হার যখন সোসাইটিতে (সমাজে) ছড়িয়ে পড়বে, তখন যে পরিমাণ লোক আক্রান্ত হবে, তাদের সামাল দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পক্ষে সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, আমাদের চিকিৎসকরা গত একবছর ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তারা বার্ন আউট হয়ে গেছে। তারা কোনভাবেই আর পারছেন না। চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রেস মিডিয়া যেভাবে লেখে তাতে মনে হচ্ছে একমাত্র হাসপাতালেরই দায়। আর কারও দায় নেই। একসময় সত্যি সত্যি ডাক্তাররা হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে যাবে, আমাদের ডাক্তাররা এটা আর সামাল দিতে পারবেন না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, আমি ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, প্রণোদনার কথা অনেকে বলেছেন, অনেক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে কিন্তু তারা প্রণোদনা চান না, তারা একটি ভালো কর্ম পরিবেশ চায়, অন্যকিছু নয়। ডাক্তারদের যারা আক্রমণ করে তারা কিন্তু ভারত পাকিস্তান থেকে আসেন না, তারা এদেশেরই লোক। এ ক্ষেত্রেও আমাদের সচেতনতার প্রবল ঘাটতি রয়েছে। বিদেশে যারা সেবাদানকারী, তাদের ওপর আক্রমণ করলে ফৌজদারি দণ্ডবিধির আওতায় পড়ে। সেটা যদি আমরা প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে আমাদের ডাক্তারদের সুরক্ষা হবে।
-এএ