আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করোনার কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় তেমন কোনো দৃশ্যমান ও উদ্ভাবনী পরিকল্পনা নেই বলে মন্তব্য করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।
শুক্রবার (৪ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে সংগঠনটি এ মন্তব্য করে।
সিপিডি বলছে, নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্প ও গতানুগতিক অর্থনীতির জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ থাকলেও মূল প্রতিপাদ্য ‘জীবন-জীবিকা’ রক্ষার ‘স্বচ্ছ্ব রূপরেখা’ নেই।
সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এবার অর্থনীতির প্রায় সকল জায়গায় স্বস্তির একটি জায়গা থেকে বাজেট দেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু দুর্বল অনুমতির ওপর প্রাক্কলন বাজেটকে কাঠামোগত দুর্বল করে দিয়েছে। এ বাজেটকে কোভিডকালীন বাজেট বলা হলেও স্বাস্থ্য বা শিক্ষা খাতে তার প্রতিফলন তারা দেখছেন না। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বা মহামারীতে যারা নতুন করে দারিদ্র্যে পড়েছে, তাদের বিষয়েও বাজেটে তেমন কিছু নেই।
তিনি বলেন, বাজেটে ব্যবসাবান্ধব পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা আছে, তাতে কর্মসংস্থান তৈরি করার পরোক্ষ একটি চেষ্টা হয়ত আছে কিন্তু পরোক্ষ চেষ্টায় অর্থনীতিতে ‘বড় ধরনের চাঞ্চল্য’ সৃষ্টি করা যায় না।
তার ভাষায় এ বাজেটে প্রয়োজনীয় কিছু উদ্যোগ থাকলেও তা ‘যথেষ্ট নয়’। সিপিডি বলেছে, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার বাজেট বক্তৃতায় স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থান খাতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কিন্তু, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যাশিত বরাদ্দ আসেনি।
আগামী অর্থবছরের ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার বাজেট বিশ্লেষণের বিষয়ে জানাতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সরকারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে এসব খাতের বরাদ্দগুলো মেলে না। মোট বরাদ্দে সরকারি সেবা, শিক্ষা ও প্রযুক্তি, পরিবহন এবং যোগাযোগ সামাজিক সুরক্ষা ও কল্যাণ খাত বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বরাদ্দের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
বাজেট পর্যালোচনায় প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।
প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেট ঘাটতি কোথা থেকে আসবে সেটা বড় প্রশ্ন। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৬.২ শতাংশ ধরা হয়েছে। বৈদেশিক উৎস থেকে বাজেট ঘাটতি পূরণের বিষয়টি ইতিবাচক দিক, এটা আকাঙ্ক্ষিত। তবে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের ১০ মাসের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করে পুরো অর্থবছর কেমন হতে যাচ্ছে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে সামষ্টিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে গতিপ্রকৃতি ঠিক করা হয়নি। আমরা এখানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছি।
তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণের বিষয়ে বাজেটে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে চলতি সংশোধিত বাজেটের তুলনায় রাজস্ব আহরণ ১০.০৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ঘাটতি বাজেটের অর্থায়ন রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে কতটুকু সম্ভব হবে, সে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আছে। তবে সিপিডি পর্যালোচনায় দেখতে পায় রাজস্ব আহরণ ৩০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৯.৬ শতাংশ। বলা হচ্ছে, রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করা হবে। ব্যয় ঠিক করে আয়ের চিন্তাধারা থেকে এনবিআরের ওপর রাজস্ব আদায়ের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। যা আসলে অর্জন করা সম্ভব হয় না।
-এএ