মুফতী এইচ এম আবু বকর সিদ্দীক।।
গত ২০ এপ্রিলের একটি খবরে আমাদের অনেকের চোখ আটকে গেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাবার বাড়ি থেকে রমাদানের ইফতারি না দেয়ায় শফিক নামের এক যুবক তার স্ত্রী আখি বেগমকে বেদম মারধর করেন।
আখি বেগমের মা রাহিমা বেগম গণমাধ্যমে বলেন, ‘মেয়েকে মারধরের কথা শুনে স্বামীকে নিয়ে জামাইয়ের বাড়িতে যাই। বাড়িতে প্রবেশ করা মাত্রই আখির শাশুড়ি আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে সফিক, তার বাবা-মা চেয়ার দিয়ে এলোপাতাড়ি আমাদের মারধর শুরু করেন। মেয়ে আমাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে সবাই মিলে তার ওপর নির্যাতন চালান।’
তিনি আরও বলেন, ‘মারধর শেষে কয়েক ঘণ্টা ঘরের মধ্যে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন।’
মেয়ের বাবার বাড়ি থেকে জামাই বাড়িতে রমাদানে ইফতার পাঠানো নামক কুসংস্কারের জঘন্য উদাহরণ এটা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাহে রমাদানকে কেন্দ্র করে এই কুপ্রথা এখন শেকড় গেড়েছে। অনেকে মনে করে থাকেন, মেয়ের বাবার বাড়ি থেকে জামাই বাড়িতে বাহারি ইফতার পাঠালে শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের মুখ উজ্জ্বল হয়, তাকে সবাই ভালোবাসে। তাই ঋণ করে হলেও জামাই বাড়িতে মেয়ের বাবা মা জৌলুসপূর্ণ ইফতারি পাঠায়। শুধু অশিক্ষিত পরিবারগুলোতেই যে এর ছড়াছড়ি তা নয়, সমাজের সাধারণ শিক্ষিত এমনকি ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত পরিবারেও লেগেছে এই অভিশাপের ছোঁয়া।
মাওলানা সাইমুম সাদী নামক একজন সচেতন আলেম তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘এক অভিনব আবেদন এসেছে আমার মেসেঞ্জারে। যিনি পাঠিয়েছেন তিনি একজন মসজিদের ইমাম। চার মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে তার।
ইমাম সাহেব রমজান মাসে চার মেয়ের বাড়িতে ইফতারি পাঠাতে চান। কিন্তু তার কাছে সেই পরিমাণ টাকা নেই। খুব অল্প বেতন পান মসজিদে। সেই বেতনে নিজেই চলতে পারেননা। চার মেয়ের শশুরবাড়িতে ইফতারি পাঠাতে কমপক্ষে বিশ হাজার টাকা লাগবে। এই টাকা ম্যানেজ করতে পারছেননা। তাই কিছু সাহায্য চাচ্ছেন।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, চার মেয়ের জামাইরা কি করেন? তিনি যা জানালেন তাতে বুঝলাম, জামাইয়ের দুইজন ব্যবসা করেন, একজন মধ্যপ্রাচ্যে চাকুরী করে এবং একজন বেকার অবস্থায় আছে। কিন্তু এই অবস্থায়ও মেয়ের বাড়িতে ইফতার দিতে হয় বাধ্যতামূলক। না দিলে অনেকটা যৌতুকের মতই মেয়েকে বিভিন্ন রকম মানসিক অত্যাচারের সম্মুখিন হতে হয়।
ইফতারি নামক এই অন্যায় কালচারের বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলা উচিত। যারা বিবাহিত তাদের উচিত এই ঘোষণা দেওয়া যে, আমি শশুরবাড়ি থেকে এই বাধ্যতামূলক ইফতারি নেবনা ইনশাআল্লাহ। এটা স্পষ্টত অত্যাচার। যৌতুকের মতই একটি লজ্জাজনক চাà¦