আওয়ার ইসলাম: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার খুব দুর্বল সরকার। এত দুর্বল যে নিজেদের রক্ষা করবার জন্য প্রত্যেক দিন নতুন নতুন আইন তৈরী করতে হয়। একটা আইন তৈরী করেছে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন। মানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।
বুধবার (১০ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তালতলা মার্কেটের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশব্যাপী নিরপেক্ষ নির্বাচন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন তো আজ্ঞাবহ কৃতদাসের চেয়েও খারাপ। সরকারকে কিছু বলতে হয় না, তার আগেই ওরা বলে দেয়, সুষ্ঠু ভাবে নির্বাচন হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছে। অবিলম্বে এই নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করা উচিত। আজকে এই জনসভা থেকে ঘোষণা করতে চাই, অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে হবে। যোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারা নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকের এই সভা করছি অত্যান্ত চাপের মুখে। মঙ্গলবার রাত ১২টায় বলা হয়েছে মোহাম্মদপুরে সভা করতে দেয়া যাবে না, ওখানে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। অথচ তারাই আগে সেখানে অনুমতি দিয়েছিল। রাত ১২টায় এখানে অনুমতি দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা একটা কঠিন সময় অতিবাহিত করছি। এত বড় কঠিন সময় স্বাধীনতার ৫০ বছরে আর আসেনি। ১৯৭১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আহবানে যখন আমরা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি তখন আমাদের সামনে একটা স্বপ্ন ছিল যে আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ তৈরী করব। একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, একটা গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা তৈরি করব। এখানে সবাই ন্যায় বিচার পাবে, কোনো বৈষম্য থাকবে না। কিন্তু আজকে ৫০ বছর পরে আমরা দেখছি আমাদের অধিকারগুলো যেগুলো পাকিস্তান সেনাবাহিনী কেড়ে নিয়েছিল, আজকে এই সরকার একই কায়দায় আমাদের সেই সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে। সেদিন পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীরা বন্দুকের মুখে আমাদের জিম্মি করেছিল, আমাদের ভাইদের হত্যা করেছিল। আজকেও এই সরকার যারা জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে, বন্দুকের মুখে আমাদের সমস্ত অধিকারগুলো কেড়ে নিচ্ছে। আমাদের ভাদের হত্যা করছে। বোনদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না।
ওই যে আশা আকাঙ্খা, ওই যে স্বপ্ন সেটা কি আজকে দেখতে পাই? প্রশ্ন করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা কি ভোট দিতে গেলে ভোট দিতে পারি? এই যে আমাদের ছয়জন মেয়র প্রার্থী এখানে বসে আছেন, তারা কেউ ভোট করতে পারেননি। ভোটের দিন তাদের সবাইকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। তাদের পছন্দমতো ফলাফল ঘোষণা করেছে। এটা শুধু সিটি করপোরেশনে নয়, সেই ২০১৮ সালের আগে ২০১৪’র যে নির্বাচনেও।
তিনি বলেন, উনারা কথায় কথায় রেগে যান। কেউ সত্য-মিথ্যা বলেন, কেউ বেশিভাগই মিথ্যা বলেন। যা খুশি তাই বলেন। আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছি। কারণ আমরা জানাতে যাই, ৫০বছর আগে স্বাধীনতার যুদ্ধে কাদের অবদান ছিল। কারা বেশি অবদান রেখেছিলেন। কাদের অনুপ্রেরণায়, কাদের নেতৃত্বে কাদের আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে আমরা একটা স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছি। সেটি জানাতে চেয়েছি সুবর্ণজয়ন্তী পালনের মধ্যে দিয়ে।
-এএ