শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৩ মাঘ ১৪৩২ ।। ২৮ রজব ১৪৪৭


'প্রদীপের মাদক কারবার জেনে যাওয়ায় সিনহাকে হত্যা'

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: টেকনাফ থানার বরখাস্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাসের ইয়াবা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানকে হত্যা করা হয়। হত্যার পরে বাহারছড়া ক্যাম্পের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ বাকি আসামিদের নিয়ে মাদক উদ্ধারের নাটক সাজান প্রদীপ।

আজ রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

আশিক বিল্লাহ বলেন, টেকনাফে পুলিশ চেকপোস্টে মেজর সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর এই হত্যা কাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ। তিনি জানান, মেজর সিনহাকে টেকনাফ ছাড়ার হুমকিও দিয়েছিলেন ওসি প্রদীপ। র্যা ব জানায়, মেজর সিনহা হত্যার মামলায় অভিযুক্ত ১৫ জনের মধ্যে পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৩ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার সকালে কক্সবাজার আদালতে সিনহা হত্যায় ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় র্যাব। পরে ঢাকার কারওয়ানবাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে তদন্তের বিস্তারিত জানান র্যা বের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ।

কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদনটি দাখিল করেন র্যাব-১৫-এর কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. খায়রুল আলম।

আশিক বিল্লাহ জানান, সিনহাকে দ্রুত টেকনাফ ছাড়ার হুমকি দিয়েছিলেন ওসি প্রদীপ। এরপরও সিনহা আমলে না নিয়ে তার কাজ চালিয়ে যান। এরপর হত্যার পরিকল্পনা করেন।

অভিযুক্তদের মধ্যে ১৪ জন কারাগারে এবং একজন পলাতক রয়েছেন। দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর আলোচিত এই মামলাটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়া হলো আজ।

অভিযোগপত্র জমা দেয়ার পর পুলিশ সুপার মো. খায়রুল ইসলাম জানান, সিনহা হত্যার ঘটনায় মাদক ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে করা তিনটি মামলার সত্যতা পাওয়া যায়নি। সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসের করা মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

আদালতে জমা দেয়া অভিযোগপত্রে টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে টেকনাফ থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাগর দে পলাতক। বাকি সব আসামি কারাগারে।

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ভ্রমণ বিষয়ক তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য তিনি কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন শিপ্রা দেবনাথ, সাহেদুল ইসলাম সিফাত ও তাহসিন রিফাত নুর।

কক্সবাজারের পুলিশ সে সময় বলেছিল, সিনহা তার পরিচয় দিয়ে তল্লাশিতে বাধা দেন। পরে পিস্তল বের করলে চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে।

কিন্তু পুলিশের দেয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ২ অগাস্ট উচ্চ পর্যায়ের এই তদন্ত কমিটি গঠন করে। পুলিশের বিরুদ্ধে বিচার বহির্ভূত হত্যার অভিযোগগুলোও নতুন করে আলোচনায় আসতে শুরু থাকে। সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। তিনটি মামলার দুটি মাদক রাখার অভিযোগে এবং একটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে।

এ ঘটনায় হত্যা মামলাটি করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। গত ৫ আগস্ট আদালতে করা এই মামলায় তিনি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ পুলিশের নয় সদস্যকে আসামি করেন। চারটি মামলারই তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। পরে র্যাব এ ঘটনায় প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের ১১ জন পুলিশ সদস্য ও ৩ জন গ্রামবাসী।

পুলিশের করা তিনটি মামলার তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে র্যাব। গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার আদালতে তিন মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয় বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ