কাউসার লাবীব: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারা মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর (৭৬) ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইসলামিক কালচারাল ফোরাম বাংলাদেশ- এর চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান মমতাজী ও সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. নাজমুল হক।
আজ রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় তারা বলেন, আল্লামা কাসেমী রহ. ছিলেন সৎ, সাহসী, নির্ভীক, বিনয়ী ও প্রজ্ঞাবান আলেম। জাতীয় রাজনীতিতে ছিলেন যোগ্য অভিভাবক ও রোল মডেল। তার ইন্তেকালে জাতি শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারালো। ইসলামের চরম এ ক্রান্তিলগ্নে মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করার পিছনে তার অবদান অনস্বীকার্য।
তারা বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে তিনি ছিলেন আস্থাবান মুরুব্বি, ধর্মীয় রাজনীতিতে অন্যতম দিকপাল, হক ও ন্যায়-নীতির ওপর অটল-অবিচল একজন নিষ্ঠাবান আলেম। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানাতেন তিনি। বাতিলের সাথে কখনো আপোষ করেননি।
তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে তিনি ছিলেন সদা সোচ্চার। বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে ঈমান বাঁচাতে তিনি ছিলেন লৌহমানবের ভূমিকায়। তা'লীম তারবিয়াতের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধির ময়দানে তিনি ছিলেন আকাবির আসলাফের যোগ্য উত্তরসূরি।
তারা বলেন, জীবনের সর্বক্ষেত্রে সদা সুন্নাত পালনে তিনি ছিলেন সাহাবীদের কার্বন কপি। ইসলামী তাহযীব তমুদ্দুন বিকাশে ছিলেন অতন্দ্রপ্রহরী। নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অকুতোভয় এক সিপাহসালার। যুগশ্রেষ্ঠ এ মহামনীষীর ইন্তেকালে দিশেহারা এ জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
তারা আরও বলেন, আল্লামা কাসেমী রহ. তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনে দ্বীন ও ইসলামের বহুমুখী খেদমত করে গেছেন। উলূমে ইলাহীর আকাশে তিনি ছিলেন উজ্জ্বল ধ্রুবতারা, দরসে হাদীসের মসনদে জীবন্ত কিংবদন্তি। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবার, ছাত্র ও মুরীদানদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
-কেএল