বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সাংস্কৃতির অন্ধানুকরণ ও আমাদের ধর্মীয়চর্চা ইরানের মধ্যস্থতায় হামলা বন্ধে হুতিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব সৌদির লেখকপত্র পরিবারের সঙ্গে কক্সবাজার ইসলামী সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদের আড্ডা জাফর ইকবালসহ ৫ আসামিকে আত্মসমর্পণে সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ ‘ক্রসফায়ারের’ নিয়ে আইজিপি বক্তব্য নাকচ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাতে ভালো ঘুমের জন্য যে ফলগুলো খাবেন হাফেজ মাওলানা যুবায়ের আহমদ আনছারী রহ.: বর্ণাঢ্য জীবন, কর্ম ও সাধনা (পর্ব: ৫) প্রেসিডেন্টের অনুমতিতে সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা পাঠাচ্ছে মিশর সৌদি আরবের দুই শহরে জরুরি সতর্কতা জারি   ‘নির্বাচনের আড়ালে চাপা পড়ছে ইসরায়েলের অপরাধ’

ফারেগ মানে শিক্ষাসমাপ্তি নয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

।।কাজী একরাম।।

নেসাবে তালিম বা শিক্ষা সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে নানামাত্রিক বিবেচনা ও সীমাবদ্ধতা থেকে থাকে, যা যৌক্তিক এবং বাস্তবিক। একাডেমিক পড়াশোনাটা তাই যেমন হয় সীমিত, তেমনি থাকে একটা নির্ধারিত বৃত্তের ভেতর আবদ্ধ। এই সীমাবদ্ধ সিলেবাসের বৃত্তবদ্ধ পড়াশোনাকে সমাপ্ত কিংবা পর্যাপ্ত কোনটাই বলা যায় না। বরং বাস্তবতা হচ্ছে, ‘একাডেমিক পড়াশোনার পর থেকেই একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান আহরণ এবং অধ্যয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হয় মাত্র।’

সন্দেহ নেই, শিক্ষা সিলেবাসের একটা প্রথাগত সমাপ্তি রয়েছে। কিন্তু এর মানে আদৌ জ্ঞান আহরণের সমাপ্তি নয়। যারা এটাকে শিক্ষা-সমাপ্তি হিসেবে ধরে নেয়, আলি নদভি মনে করেন, ‘তারা আদতে কোনো শিক্ষাই লাভ করে নি।’ ১৯৬৫ সনে নদওয়াতুল উলামার শিক্ষাসমাপনকারী শিক্ষার্থীদের বিদায়ী অনুষ্ঠানে ‘ইখলাস, আত্মত্যাগ ও আত্মযোগ্যতা’ শীর্ষক একটি বক্তৃতায় তিনি বলেন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই একটি শিক্ষাকাল নির্ধারণ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীকেও তা সমাপ্ত করতে হবে, কিন্তু এখানে আমরা যে মহাগুরুত্বপূর্ণ কথাটি আপনাকে বলতে চাই, তা এই যে, শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন কখনো সমাপ্ত হতে পারে না এবং তালিবে ইলম কখনো তলবে ইলম ও জ্ঞান অন্বেষণ থেকে ফারিগ হতে পারে না।’ [জীবন পথের পাথেয়, পৃষ্ঠা ৩২-৩৩]

সাধারণত আমাদের সমাজে ‘ফারেগ হওয়া’কে শিক্ষাসমাপন হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। এই গণ্য করার মধ্য দিয়ে জীবন থেকে পঠন আর অধ্যয়নকে বিদায় জানিয়ে রীতিমতো অবসর নিয়ে নিই আমরা। আলি নদভি ‘ফারেগ হওয়া’কে সেরকম কোনো অর্থে সংজ্ঞায়িত করেন না। তাঁর মতে, ‘ফারেগ হওয়ার অর্থ হল, আমরা শিক্ষা লাভের এমন এক স্তরে উপনীত হয়েছি, এখন যেকোন বিষয়ে কিতাব হাতে নিতে পারবো এবং সাহস করে জ্ঞানসমুদ্রে ডুব দিয়ে প্রয়োজনীয় মনি-মুক্তা তুলে আনতে পারবো। জ্ঞান-ভাণ্ডারের চাবিগুচ্ছ আমাদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এখন আমরা যে কোন তালা খুলতে পারি এবং যত ইচ্ছে জ্ঞান-সম্পদ আহরণ করতে পারি। বাস্তবতা হচ্ছে, এই চাবিগুচ্ছ যত বেশি ব্যবহার করবো, তত বেশি লাভবান হবো। তত বেশি বিদ্বান ও বিত্তবান হবো।’ এ হলো আলি নদভির চোখে ফারেগ হওয়ার মতলব ও মর্মার্থ৷

আলি নদভির যে ভাবনা ও বিশ্লেষণ, শিক্ষা সিলেবাসের উদ্দেশ্যগত তাৎপর্য যদি আমরা তালাশ করে দেখি, তবে এমনটাই দেখতে পাবো। নিজের ভেতর জ্ঞানতৃষ্ণা তৈরি করে দেওয়া এবং নিরন্তর উচ্চ থেকে উচ্চতর জ্ঞান অর্জন ও অন্বেষণের প্রেরণা জাগিয়ে দেওয়াই শিক্ষা সিলেবাসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রকৃতপক্ষে ‘আমি জানি না’-র বোধ ও উপলব্ধি যে শিক্ষার্থী তার মন-মগজে গেঁথে নিতে সক্ষম হবে, সত্à