মাওলানা ইউসুফ নূর
ইসলামে জুমাবারের অনেক গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য রয়েছে।রাসূল সা: বলেছেন: সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমু‘আর দিন সর্বোত্তম। এ দিন আদম (‘আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন তাঁকে জান্নাতে দাখিল করা হয়েছে এবং এ দিন তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেয়া হয় আর জুমু'আর দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে।
(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং,২০১৪)
জুমাবার অশেষ নেকী ও সওয়াবের দিন
জুমু'আর দিনে ভালভাবে পবিত্র হয়ে সুগন্ধি মেখে জুমু'আর নামাজে শরিক হলে বিপুল সওয়াব ও অসংখ্য নেকী পাওয়া যায়।রাসূল সা:ইরশাদ করেছেন:
যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন গোসল করে এবং যথাসাধ্য ভালরূপে পবিত্রতা অর্জন করে ও নিজের তেল হতে ব্যবহার করে বা নিজ ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার
করে (মসজিদের উদ্দেশ্যে) বের হয় এবং দু’ জন লোকের মাঝে ফাঁক করে অনাহুতভাবে না বসে, অতঃপর তার নির্ধারিত নামাজ আদায় করে এবং ইমাম খুত্বাহ দেয়ার সময় চুপ থাকে, তা হলে পরবর্তী জুমু’আ পর্যন্ত তার যাবতীয় (ছোট)গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।
(সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৮৮৩)
জুমুআর দিন দ্রুত মসজিদে যাওয়ার চেষ্টা করুন
জুমুআর ফজিলত লাভের জন্য সকাল থেকেই জুমু'আর নামাজের প্রস্তুতি গ্রহণ ও দ্রুত মসজিদে যাওয়ার চেষ্টাকরা উচিত। যে যত আগে মসজিদে উপস্থিত হবে সে তত বেশি সওয়াবের অধিকারী হবে।
জুমু’আর দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতাগণ অবস্থান নেন এবং ক্রমানুসারে পূর্বে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার পূর্বে আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কুরবানী করে। অতঃপর যে আসে সে ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে একটি গাভী কুরবানী করে। অতঃপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগী দানকারীর ন্যায়। অতঃপর আগমনকারী ব্যক্তি একটি ডিম দানকারীর ন্যায়। অতঃপর ইমাম যখন বের হন তখন ফেরেশতাগণ তাঁদের খাতা বন্ধ করে দিয়ে মনোযোগ সহকারে খুতবাহ্ শুনতে থাকেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৯২৯)
জুমাবারে বেশি বেশি দুরূদ পড়ুন
মানবতার অগ্রদূত বিশ্বসেরা ও সৃষ্টির গর্ব মুহাম্মদ সা:এর সমীপে প্রতিদিন দুরূদের নজরানা পেশ করা একজন মুসলমানের কর্তব্য। তবে জুমু'আর দিনে দুরূদের গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। হাদিসে এর প্রতি উৎসাহ দেয়া হয়েছে।রাসূল সা বলেছেন তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উৎকৃষ্ট দিন হল জুমু'আর দিন। এ দিন আদম (আ:)-কে সৃষ্টি করা হয় এবং এ দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়।এদিনই শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে এবং এদিনই কিয়ামাত সংঘটিত হবে।
অতএব তোমরা এদিন আমার প্রতি অধিক হারে দুরূদ ও সালাম পেশ করো। কেননা তোমাদের দুরূদ আমার সামনে পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের দুরূদ আপনার নিকট কিভাবে পেশ করা হবে, অথচ আপনি à¦