মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ ।। ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটক গ্রহণকারী শহরগুলোর তালিকায় মক্কা পঞ্চম, মদিনা সপ্তম লেবাননে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ও ফসফরাস বোমা হামলা গুম প্রতিরোধ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফরিদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ২ ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে চায় না জমিয়ত যমুনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ২ স্কুলছাত্র ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের ন্যায়সংগত সংগ্রাম’ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত ৩ উপজেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবার দক্ষ ইসলামি গবেষক তৈরির উদ্যোগ আস-সুন্নাহর, দিনব্যাপী কর্মশালা ২২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ

মাওলানা হাসান আল-হাশিমির ইন্তেকাল: ভারি হয়ে ওঠেছে দেওবন্দের বাতাস

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ কাসিম ওজহারী।।
অনুবাদ: আবদুল্লাহ তামিম

মালি চলে গেলে বাাগনের ফুলগুলোর দুঃখের আর শেষ থাকে না। মাওলানা হাসান আল-হাশিমির ইন্তেকালে এমই শূণ্যতা ছেয়ে গিয়েছে ভারতের ইলমি বাগানে।
দেওবন্দের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হযরত মাওলানা হাসান আল-হাশমি গত বুধবার এ নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে আল্লাহর মেহমান হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর শুনে আমি খুব দুঃখিত হয়েছি। এটা অবিশ্বাস্য যে মাওলানা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। মওলানা ১৯৪৯ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি দারুল উলূম দেওবন্দে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি ইলমি জগতে অনেক কাজ করেছেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত হয়ে উঠেছে তার কাজগুলো। তার সেবায় দেওবন্দ এলাকার হিন্দু মুসলিম সবাই সমানভাবে ‍উপকৃত। তার বিয়োগে ভারি হয়ে ওঠেছে দেওবন্দের বাতাস।

দারুল উলূম দেওবন্দে ছাত্র থাকাকালীন আমি অনেকবার মাওলানাকে দেখেছিলাম। মাওলানাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি খুব মিশুক স্বভাবের এবং অসামান্য গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন। তিনি সকলের সাথে অত্যন্ত ভালবাসা ও স্নেহের সাথে সাক্ষাত করতেন, ছাত্রদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধা ভালোবাসার আচরণ করতেন। আল্লাহ তাকে ভাল চরিত্র ও সুন্দর চেহারা উভয়ই দিয়েছিলেন। তিনি একজন দীনের দায়ি ও আলেম ছিলেন। সর্বোত্তম শারীরিক ও আধ্যাত্মিক নিরাময়কারী ছিলেন। দেওবন্দে তিনি খিদমত খলক নামে একটি সংস্থা চালাতেন। আমার মনে আছে একবার আমি তার পাশে বসেছিলাম। তিনি বলছিলেন, আমি কেবল কুরআন ও হাদিসই ব্যবহার করি। আমি মাওলানা সৈয়দ আবু আল-হাসান আলী নদভীর সাথেও একইরকম আচরণ করেছি, একইভাবে ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা আসাদ মাদানী সাহেবকেও আমিও চিকিত্সা করেছি। প্রায় পাঁচ হাজার দেওবন্দ মহিলা যাদের সন্তান ছিল না। তাদের চিকিৎসা করেছি।

তিনি কয়েক ডজন বইয়ের লেখকও ছিলেন তিনি। মাসিক তেলেসমাতি দুনিয়ার সম্পাদক ছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর তিনি মাওলানা আমির উসমানির জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা তাজাল্লিরও সম্পাদক ছিলেন। বিষয়গুলির বিষয়েও তার একটি মতামত ছিল, একই সাথে তিনি একজন দুর্দান্ত কবিও ছিলেন। একজন সামাজিক ব্যক্তিত্বও ছিলেন, তিনি সামাজিকভাবে জাতীর সেবাও ভালভাবে পালন করেছেন। তার ঘরে অনেক পুরষ্কার ও সম্মাননা ঝুলে আছে। সমাজের সেবায় তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।

আমরা যদি আবার দেওবন্দে যাই, আর তাকে দেখতে না পাই, মনটা কেঁদে ওঠবে। আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হবে। পৃথিবীতে কিছুই স্থায়ী নয়, সবকিছুই একদিন শেষ হবে। সবাই চলে যাবে। মাওলানা আমাদের কাছ থেকে চলে গেছেন তবে তাঁর ভালবাসা সর্বদা আমাদের সাথে থাকবে। আমি তার সমস্ত প্রিয় মানুষ পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনের প্রতি সমবেদনা পেশ করছি। বিশেষত হজরত পুত্র মাওলানা ওয়াক্কাস আহমদের খেদমতে সমবেদনা জানাই। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা দৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন।

সূত্র: বাসিরাত অনলাইন


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ