সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি-সংক্রান্ত ৮ অনুচ্ছেদে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম সেন্টারে সংবিধান সংশোধন কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সালাউদ্দিন আহমদ। এর আগে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে কমিটির প্রধান অগ্রাধিকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি-সংক্রান্ত ৮ অনুচ্ছেদে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফিরিয়ে আনা হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের একটি প্রতিশ্রুতি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, বিভিন্ন অনুচ্ছেদ, তফসিল এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেছে। অনেকেই লিখিত প্রস্তাব দেবেন। এসব মতামত ও আলোচনা প্রতিবেদন ও পুস্তিকা আকারে সংকলন করা হবে।

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্পাদকদের অনেকেই বিরোধী দলের সদস্যদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। কমিটিও এতে একমত।

তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলোকে একাধিকবার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা অংশ নিলে স্বাগত জানানো হবে। বিভাজনের পরিবর্তে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নিতে চায় কমিটি।

গণভোটের বিষয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ১৫তম সংশোধনী বাতিলের পর সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশোধনী বিল সংসদে পাস হওয়ার পর সাংবিধানিকভাবে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষায় গণভোটের প্রস্তাবের কথাও জানান তিনি। সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে—ভবিষ্যতের কোনো সংসদ যাতে সহজে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তন বা বাতিল করতে না পারে, সে জন্য এসব বিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও গণভোট বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

সংবিধান সংশোধনের সময়সীমা সম্পর্কে কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংশোধনী বিল প্রস্তুত করবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের প্রথম অধিবেশনে, অর্থাৎ জানুয়ারিতে বিলটি সংসদে উত্থাপন হতে পারে। এরপর সংসদে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর বিলটি পাস হলে সাংবিধানিকভাবে যেসব বিষয়ে গণভোটের প্রয়োজন হবে, সেসব বিষয়ে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে সংশোধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ