মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ ।।
করোনা পরিস্থিতিতে মাস্ক না পরায় নিজের ছেলেকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছেন বাবা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) কলকাতার শোবাবাজারে এ ঘটনা ঘটে।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেরমত কলকাতা শহরেও চলছে লকডাউন। সাধারণ মানুষদের বাইরে বেরোনোর সুযোগ নেই। কিন্তু এরই মধ্যেই শ্যামপুকুর থানার ডিউটিরত অফিসারের কাছে হাজির হয়ে নিজের ছেলেকে হত্যা করে এসেছেন বলে স্বীকারোক্তি দেন ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা । তার নাম বংশধর বাবু।
বংশীধর বাবু জানান, তার ছেলে শীর্ষেন্দু শারীরিক প্রতিবন্ধী ও মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিল। তাই তিনি প্রতিদিন তাকে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যেতেন। সেদিনও বাইরে বেরোনোর সময় তাকে মাস্ক পরতে বললে সে কিছুতেই রাজি হয়নি। তাই তিনি রাগেরবসে ছেলের গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে তাকে মেরে ফেলেছেন।
বংশীবাবুর স্বীকারোক্তি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজি হয়ে শীর্ষেন্দুর মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পান। পাশের বিছানাতেই শীর্ষেন্দুর বৃদ্ধা মা শুয়ে আছেন।
তিনি সেরিব্রাল অ্যাটাকের পরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে দীর্ঘ ১৮ যাবৎ বিছানায় পড়েছেন। ছেলেকে তার সামনেই হত্যা করা হয়েছে। অথচ তিনি কিছুই করতে পারেননি বলে আফসোস করেন।
প্রতিবন্ধী ছেলে এবং দীর্ঘ ১৮ বছর যাবৎ বিছানায় পড়ে থাকা স্ত্রীর ঘানি টানতে টানতে মানসিক চাপের কারণেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অনুমান করছেন তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা। সূত্র: আনন্দবাজার
-এটি