আওয়ার ইসলাম: জেলহাজতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি অত্যান্ত ভয়াবহ হবে— এমন আশঙ্কায় ২৫ হাজার বন্দিকে সাধারণ মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট অফিস। এমনিতেই প্রতি বছর এপ্রিল মাসে সাধারণ মুক্তির আওতায় অনেক বন্দিকে মুক্তি দেয় দেশটি। কিন্তু এবার মুক্তি পাওয়া বন্দির সংখ্যা অনেক বেশি।
গার্ডিয়ান এক সংবাদে জানিয়েছে, মিয়ানমারের বিভিন্ন হাজতে মোট বন্দি আছে এক লাখের মতো। সে হিসেবে এক চতুর্থাংশ বন্দি মুক্তি পেয়ে যাচ্ছেন এবার। দেশটি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূলত করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর আশায়া।
সরকারি তথ্য মতে, মিয়ানমারে এখন পর্যন্ত ৮৫ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন চারজন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে খুবই কম সংখ্যক লোকের করোনাভাইরাস টেস্ট করা হয়েছে। ফলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরো অনেক বেশি।
মিয়ানমার দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এর মধ্যে মানবাধিকার সংস্থাগুলো হাজতে থাকা বয়স্ক লোকদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলো। কারণ হিসেবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছিলো- দেশটির হাজতের পরিবেশ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে মিয়ানমার পুলিশের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, শিগগিরই বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি এর বেশি কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি বলে জানিয়েছে এএফপি।
ওয়ার্ল্ড ও মিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে সারা বিশ্বে ২১ লাখের বেশি লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এক লাখ ৪৬ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ লাখের বেশি লোক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন। তবে এখনো আক্রান্ত আছেন ১৪ লাখের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে ৫৬ হাজারের বেশি লোকের অবস্থা গুরুতর।
-এটি