মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ ।।
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে গোটা পৃথিবী আজ থমকে গেছে। স্থবিরতা চলে এসেছে মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরায়। উদ্ভূত বৈশ্বিক এই মহামারিতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। করোনার সংক্রমণ রোধকল্পে দেশবিদেশের বিভিন্ন শহর এবং গ্রামকে করা হয়েছে লকডাউনের আওতাভুক্ত। যার থেকে বাদ পড়েনি মসজিদ মাদরাসাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। বিশ্বের সর্বত্রই বিরাজ করছে কঠিন ও সংকটময় পরিস্থিতি। এই মুহূর্তে সবার করণীয় কী হবে এ সম্পর্কে কথা বলেছেন পাকিস্তানের প্রসিদ্ধ আলেম মুফতি তাকি উসমানী।
আজ ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের করাচী শহরস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, আমরা সবাই একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে আমাদের গোনাহের কারণেই।
তাই সর্বপ্রথম আমাদের করণীয় হল,
১. খালেসদিলে আল্লাহ তায়ালার কাছে নিজের কৃত গোনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা।
২. দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের জীবনবাজি রেখে যারা আমাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের নিজেদের সুরক্ষার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করা।
৩. যারা মুসলমান আছেন, তারা ডাক্তার ও প্রশাসন থেকে যে উপায়-উপকরণ বা সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়, তা গ্রহণ করবেন এবং এটিকে তাওয়াককুলের পরিপন্থী মনে করবেন না ।
শায়খুল ইসলাম আল্লামা তাকি উসমানী বলেন, মসজিদের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে লক্ষ রাখতে হবে, যারা যেকোনো ধরনের অসুস্থতার মধ্যে আছেন, বা যাদের শরীরে রোগ সহনীয় ক্ষমতা কম, তারা নিজেদেরকে মাজুর মনে করে ঘরেই নামাজ পড়বেন। মসজিদে যাবেন না।
আর যেই মুসল্লীরা মসজিদে যাবেন, তারা সুন্নত এবং নফল নামাজ নিজের ঘরে পড়বেন। শুধুমাত্র ফরজ নামাজ জামাতের সঙ্গে মসজিদে গিয়ে আদায় করবেন। দুই কাতারের মাঝখানে এক কাতার ফাঁকা রাখবেন এবং নিজেরা যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে নামাজে দাঁড়াবেন।
মসজিদের দায়িত্বশীলদের প্রতি লক্ষ করে তিনি বলেন, আপনারা মসজিদে হ্যান্ড সেনিটাইজার বা সাবান রাখবেন। সমস্ত মুসল্লীরা মসজিদে প্রবেশের পূর্বে তা ব্যবহার করবে। মসজিদে কার্পেট বিছানো থাকলে তা তোলে ফেলবেন এবং ফ্লোর ঘনঘন পরিষ্কার করবেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের (পাকিস্তানের) কোনো মসজিদে জুমুআ এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত বন্ধ থাকবে না। বরং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে স্বাভাবিক নিয়মে তা চালতে থাকবে। তবে খতিব সাহেবরা খুৎবার আগে স্বদেশী ভাষায় ভিন্ন কোনো বয়ান আপাততো স্থগিত রাখবেন।
বিভিন্ন ফেরকা ও মতবাদের শ'খানেক আলেমের উপস্থিতিতে সেই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলা হয়, দেশের সমস্ত মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ন্যূনতম তিনমাসের বাড়িভাড়া মওকুফ করে দেওয়ার জন্য।
সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আপনাদের সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক হবে হৃদ্যতাপূর্ণ। তাই আপনারা মসজিদকে টার্গেট করে কোনো সংবাদ প্রচার করবেন না। দেশের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণে, ইনশাআল্লাহ এই ক্রান্তিকার আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব।
জামিয়াতে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের ফেসবুক পেইজের লাইভ ভিডিও থেকে অনুবাদ
-এটি