ফরহাদ খান নাঈম।।
ইন্দোনেশিয়ার শীর্ষস্থানীয় মুসলিম স্কলারগণ সাধারণ মুসলমানদের সরকারি নির্দেশনা মেনে পবিত্র রমজান মাসের সকল আনুষ্ঠানিকতা নিজেদের বাসার ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।
গতকাল সোমবার ইন্দোনেশিয়া উলামা পরিষদ স্পষ্ট জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনার উদ্দেশ্য নামাজ কিংবা রমজানের অন্যান্য ইবাদাত নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং কভিড-১৯ এর মোকাবেলায় দেশকে সাহায্য করার একটি পদক্ষেপ মাত্র।
পরিষদের মুখপাত্র আসরারুন নিয়াম সলেহ বলেন, সকল ইবাদাতমূলক কর্মকাণ্ড বাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন এবং এক জায়গায় অনেক মুসল্লী জমায়েত হওয়া থেকে বিরত থাকুন।
রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হওয়া সংবাদ সম্মেলনে সলেহ আরও বলেন, জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা মানে ইবাদাত নিষিদ্ধ করা নয়। বরং বর্তমান প্রেক্ষাপটে বড় সমাবেশ এড়িয়ে চলাও একটি ইবাদত।
উলামা পরিষদ বিভিন্ন শহরে কর্মরত লোকদেরকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি না আসার ব্যাপারেও তাকিদ দেন। এই মর্মে সলেহ রাসুলুল্লাহ সা. এর একটি হাদীসও উল্লেখ করেন।
একই সাথে অসংক্রমিত এলাকার লোকদেরকেও নিরাপত্তার স্বার্থে আক্রান্ত এলাকায় প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।
গত সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে কভিড-১৯ মহামারীতে রমজানের ইবাদাত ও ঈদুল ফিতরের ব্যাপারে কিছু জরুরী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উক্ত নির্দেশনায় রমজান মাসে রোজা রাখতে বলা হয়েছে তবে মসজিদ কিংবা অন্য কোনো উন্মুক্ত স্থানে জামায়াতে সালাত আদায়ের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সাধারণ জনগণ সাহরি ও ইফতারিতে একত্রিত হতে পারবে না বলেও মন্ত্রনালয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, ইন্দোনেশিয়ায় এ পর্যন্ত সর্বমোট ৪,৬০০ টি করোনা ভাইরাসের কেইস শনাক্ত করা হয়েছে, মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০০ ও সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ৩৮০।
গত ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ১৮৫ টি দেশে ১.৮৬ মিলিয়ন করোনা কেইস শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
জনস হপকিন্সের সূত্রে আরও জানা যায়, করোনায় এ পর্যন্ত প্রায় ১১৫,০০০ জনের মৃত্যু ঘটেছে এবং আরোগ্য লাভ করেছেন প্রায় ৪৩৮,০০০ এরও বেশি।
এএ.কম.টিআর এর সূত্রে ফরহাদ খান নাঈমের অনুবাদ।
-এটি