বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৭ মাঘ ১৪৩২ ।। ২ শাবান ১৪৪৭


করোনা: মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে সাম্প্রদায়িক জাল বিস্তার করা হচ্ছে’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ ।।

করোনা ইস্যুতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে সাম্প্রদায়িক জাল বিস্তার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এমপি।

গত ১০ এপ্রিলের এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, এই বৈশ্বিক মহামারির সময়েও সাম্প্রদায়িক জাল বিস্তার করার জন্য মিথ্যা সংবাদ প্রচারের ফলে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপরাধের এক তরঙ্গ প্রবাহিত হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করা,এটিকে কেবল আরও বৃদ্ধি করে চলেছে।

মোদি সরকারকে লক্ষ করে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, যারা দেশের এই কঠিন মুহুর্তেও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের লাগাম টেনে ধরুন এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। কারণ, তারা দেশ এবং দেশের জনগণের শত্রু।

ভিডিও বার্তায় ওয়াইসি বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে গোটা পৃথিবী যখন মহাসঙ্কটকাল অতিক্রম করছে, তখন ভারতীয় এক শ্রেণীর লোকেরা ব্যস্ত রয়েছেন স্বদেশে নতুনকরে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। করোনার প্রতিরোধের চেয়ে তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন মুসলিম বিদ্বেষের অসহিষ্ণু আগুন প্রজ্জ্বলিত করা। শতশত মানুষের লাশ আর জীবন বাঁচানোর আহাজারি তাদেরকে নিবৃত্ত রাখতে পারেনি ধর্মের লড়াই থেকে। তাই একেরপর এক অপবাদ চাপিয়ে দিচ্ছেন মুসলমানদের ওপরে।

এই স্বার্থান্বেষী লোকদের সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় অসাধু কিছু সংবাদমাধ্যম। মদদ জোগাচ্ছে দুষ্টচরিত্রের কতিপয় রাজনীতিকও। তারা ভারতীয় জনসাধারণের মনের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল করে দিতে চাচ্ছেন যে, মুসলিম মাত্রই করোনা বহনকারী। কোনো হিন্দু তার সংস্পর্শে গেলে সেও সংক্রমিত হবে।

এই বিশ্বাস থেকেই ভারতের অধিকাংশ প্রদেশে ক্ষণেক্ষণে মুসলমানদের লাঞ্চিত করা হচ্ছে। করা হচ্ছে এলাকা থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা। গত ১৫ মার্চ ২০২০ দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে তাবলীগ জামাতের এক জমায়েতকে কেন্দ্রকরে আরও নানা ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করা হয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে। তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ওই মারকাজেও। তরান্বিত হয় মুসলিম বিদ্বেষ।

তিনি বলেন, মুহাম্মদ দিলশাদ ( ৩৭) নামে এক মুসলিম যুবক দিল্লির ইজতেমায় যোগ দেওয়ার পরে করোনা নেগেটিভ থাকা সত্ত্বেও ১৪ দিন হোম কোয়ারান্টাইন পালন করলেও নিস্তার মেলেনি নিজ গ্রামের হিন্দুদের থেকে। তারা দিলশাদের ওপরে নানারকম অত্যাচার ও নিপিড়ন চালাতে থাকলে নিরুপায় দিলশাদ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।

রাজস্থানের ইরফান খান নামের এক যুবক তার প্রসূতি স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসা কেন্দ্রে গেলে চিকিৎসকরা যখন জানতে পারলো, সে মুসলিম তখন আর চিকিৎসাসেবা দেয়নি। ফলে প্রসূতি মুসলিম নারীটি সন্তান জন্ম দিয়েছিল পথেই। তিনি বলেন, একজন মুসলমান হওয়ার কারণে তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ