মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮


কেন করোনা ভাইরাস?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি রেজাউল করিম: যখন কোন সমাজে বা দেশে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, অন্যায়-অত্যাচার, অবৈধ যৌনকর্ম, সুদ-ঘুষ, হারাম খাবার প্রভৃতি পাপাচারে ভয়াবহ সয়লাব বয়ে যায় এবং আল্লাহর জমিনে তাঁর অবাধ্যতা মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পায় তখন আল্লাহর আযাব ও শাস্তি সেখানে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- “স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।” (সূরা রুম, আয়াত: ৪১) অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- “তোমাদের উপর যেসব বিপদ-আপদ পতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল।” (সূরা আশ-শুরা, আয়াত: ৩০)

হাদীস শরীফে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন- “যখন কোন জাতীর মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা তা প্রকাশ্যেও করতে শুরু করে, তবে তাদের মাঝে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী ব্যাপক আকার ধারন করে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে ছিল না।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪০১৯)
অপর হাদীসে বর্ণিত আছে, “মহামারী প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, যে গযব বা শাস্তি বনী ইসরাঈলের এক গোষ্ঠীর উপর এসেছিল, তার বাকি অংশই হচ্ছে মহামারী। ” (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১০৬৫)

তবে মহামারি ও দূরারোগ্যব্যাধি কাফের-মুশরিকদের জন্য আযাব হলেও মুসলমনদের ক্ষেত্রে রহমত এবং তাতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে তা শাহাদাত হিসেবে গণ্য হয়। যেমন- হাদীসে বর্ণিত আছে: “মহামারি আমার উম্মতের জন্য শাহাদাত এবং রহমতস্বরুপ। আর কাফেরদের জন্য হল আযাব। (মুসনদে আহমদ ৭/৩৩)

করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য করণীয়
১.ইস্তেগফার ও দোয়া করা: আল্লাহর কাছে সমস্ত অপরাধ ও পাপ থেকে ক্ষমা চাওয়া এবং করোনা ভাইরাসসহ সর্বপ্রকার রোগ থেকে পরিত্রাণ চাওয়া । কেননা, রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠিন কঠিন রোগ থেকে মুক্তির জন্য নিম্মোক্ত দোয়াসমূহ বেশি বেশি করে পড়তেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ البَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الْأَسْقَامِ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল বারাছি ওয়াল জুনূনি ওয়াল জুযা-মি ওয়ামিন ছাইয়্যিইল আসক্বাম। অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে শ্বেত রোগ, মস্তিষ্ক বিকৃতি, কুষ্ঠ রোগ ও দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে আশ্রয় চাই। (সুনানে আবি দাউদ, হাদীস নং ১৫৫৪/ সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ৫৪৯৩/ মুসনদে আহমদ, হাদীস নং ১৩০০৪/ সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ১০১৭)

اللهُمَّ جَنِّبْنِي مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاقِ، وَالْأَعْمَالِ، وَالْأَهْوَاءِ، وَالْأدْوَاءِ
উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা জাননিবনী মুনকারা-তিল আখলা-কি ওয়াল আ’মা-লি ওয়াল আহওয়াই ওয়াল আদওয়া-ই। অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ ও কুপ্রবৃত্তি এবং রোগ-বালাই থেকে নিরাপদে রাখুন। ( তাবরানী, হাদীস নং ৩৬/ মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদীস নং ৩০২১০/ সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৫৯১/ মুসতাদরাকে হাকেম ১/৫৩২)

উসমান ইবনু আফফান (রা.) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় যে কোন বান্দা এ দুয়াটি তিনবার পাঠ করবে, কোন কà¦