আওয়ার ইসলাম: বিএনপির কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি পেতে আইনি পথ ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। দ্বিতীয় বারের মতো দেশের উচ্চ আদালতে খালেদার জামিন না হওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।
একই অবস্থা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদেরও। এইক সঙ্গে বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য এ পর্যন্ত কোনো বড় কর্মসূচি না দেওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ তৃণমূল বিএনপি। তারা খালেদার মুক্তিতে আন্দোলনেই ভরসা দেখছেন।
দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আগামীতে বেগম জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করতে হবে, অথবা দুর্বার আন্দোলনের পথেই ফিরে যেতে হবে।
এরই মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান করণীয় নির্ধারণ করতে সিনিয়র নেতা ও আইজনীবীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তাদের কাছে পরবর্তী করণীয় জানতে চেয়েছেন। জানা গেছে, খুব শিগগিরই আবার আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।
খালেদার আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এখনো আইনি পথ সম্পূর্ণ রূপে রুদ্ধ হয়ে যায়নি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা নিয়ে আমরা আবার আপিল বিভাগেও যেতে পারি।
তবে সেখানে ফলাফল কী হবে তা নিয়ে আমি মোটেও আশাবাদী নই। আবার সর্বোচ্চ আদালত অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের কথা বলেছে। অ্যাডভান্স ট্রিটমেন্ট নিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ অনেকেই বিদেশে যান। সেই যুক্তিতে বেগম জিয়াকেও সর্বোচ্চ আদালত সুযোগ দিতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, এই মামলাটি রাজনৈতিক। তাই সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি মিলবে না। আমাদের আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা জানান, নেত্রীর মুক্তির জন্য রাজপথের আন্দোলনে ফিরে যেতে হবে। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভাষ্য, তৃণমূল প্রস্তুত থাকলেও বিএনপির দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ক্ষুব্ধ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মাঠের কর্মী-সমর্থকরা। সামনে সকল কমিটিতে আন্দোলন সংগ্রামে থাকা নেতাদের দায়িত্ব দিতে দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
-এটি