আওয়ার ইসলাম: ভারতের দিল্লিতে মসজিদে আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ ও মুসলমানদের উপর অমানবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকার খিলগাঁও চৌরাস্তা মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন আল্লামা নুরুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস।
এসময় আল্লামা নুরুল ইসলাম বলেন, ভারত উপমহাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মাধ্যমে ৮০০ বছর যাবত মুসলমানরা শাসন পরিচালনা করেছেন। তখন ভারত উপমহাদেশের সব ধর্মের লোক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করেছেন। সে সময় যদি মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি বোধ না থাকতো, ভারতে কোন হিন্দু বসবাস করতে পারত না।
‘কিন্তু সম্প্রতি মুসলমানদের উপর অমানবিক নির্যাতন ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ করে সমগ্র দুনিয়ার মুসলমানদের কলিজায় আঘাত করেছে। এটা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, এটা গোটা মুসলিম উম্মাহর বিষয়।’
তিনি আরো বলেন, ধারাবাহিকভাবে কাশ্মীরের পরে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে মুসলমানদের উপর নির্বিচারে গণহত্যা চালানোর পরেও নরেন্দ্র মোদিকে মুজিববর্ষে বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণের কারণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আত্মা কষ্ট পাবে। বাংলার তৌহিদী জনতা তা বরদাস্ত করবে না।
‘১৭ কোটি মুসলমানের প্রাণের দাবিকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মাটিতে মোদির আগমন হলে বিমানবন্দর ঘেরাও করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মুফতি ওয়াক্কাস বলেন, ভারতের মুসলমানরা ভেসে আসেনি, তারা ইংরেজদের কে বিতাড়িত করে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে ভারত কে স্বাধীন করেছে। ভারতের সংবিধান মুসলমানদের হাতেই রচিত, চাইলেই মুসলমানদেরকে ভারত থেকে বিতাড়িত করা যাবে না।
উক্ত বিক্ষোভ সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, মাওলানা আশিক উল্লাহ, মাওলানা ইউনুছ ঢালী, মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা সুলতান মাহমুদ, মাওলানা রাশেদ বিন নূর ও মাওলানা আবু সাঈদ প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে মিছিলটি খিলগাঁও চৌরাস্তা হতে তালতলা মার্কেট হয়ে মালিবাগ বিশ্বরোডসহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় খিলগাঁও চৌরাস্তায় এসে মোনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
-এএ