আওয়ার ইসলাম: গুলবাহার জলিল একজন উইঘুর মুসলিম নারী। প্রায় দুই বছর সাম্রাজ্যবাদী চীনের কারাগারে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মুক্তি পাওয়ার পর গত সপ্তাহের শুরুতে এবং চলতি সপ্তাহে আল জাজিরা আরবির মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। পৃথক দুটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে বর্ণনা করেছেন সেখানে মুসলিম বন্দী নারীদের সঙ্গে কি আচরণ করছে চাইনিজ সেনাবাহিনী। ভিডিওর চুম্বকাংশ আরবি থেকে ভাষান্তর করেছেন আওয়ার ইসলাম কন্ট্রিবিউটর বেলায়েত হুসাইন।
আমরা চৈনিক সেনাবাহিনীর যৌনসম্ভোগের খুব প্রিয় বস্তু ছিলাম। অমানবিকভাবে আমাদের সঙ্গে তারা যৌন সুখ লাভ করতো। অনুনয় বিনয় করলে তারা তো আমাদের ছাড়তোই না; বরং লাগাগার আমরা গণধর্ষণের শিকার হতাম।
ঋতুস্রাব বন্ধ করার জন্য নারীদের জোর করে মাদক সেবন করানো হতো। একই কাজ করতো মুসলিম নারীদের স্মৃতিশক্তি বিলুপ্ত করার জন্যও। তারপর পশুর মতো যৌন হেনস্তা করা হতো যুবতীদের সঙ্গে।
কারাগারে একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার ছিল। আমাদের সঙ্গে নারী পুলিশদের আচর ; পুরুষদের নির্দেশ মতো তারা আমাদের একত্র করে সকলের বস্ত্রহরণ করতো এবং এই অবস্থাই আমাদের ওঠবস করতে বাধ্য করা হতো। চীন সরকার এবং কমিউনিস্টদের প্রতি আমাদের কোন অভিযোগ নেই-এই কথার ওপর আমাদেরকে জোরজবরদস্তি করে সাক্ষর করানো হতো।
উইঘুর মুসলিম নারীদের ওপর চৈনিক সেনাবাহিনী অসহনীয় ও খুব বেশিই বেদনাদায়ক নির্যাতন চালাতো। গর্ভবতী নারীদের গ্রেফতার না করে শিবিরেই থাকতে দিতো ওরা, কিন্তু সন্তান জন্ম দেয়ার পরেই মায়েদেরকে কারাগারের প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করা হতো-এভাবে অসংখ্য মায়ের কোল ধারাবাহিকভাবে খালি করছে মুসলিম বিদ্বেষী কমিউনিস্ট সরকারের সেনাবাহিনীরা।
দৃশ্যটা যে কত হৃদয়বিদারক, এটা যে দেখেছে সেই অনুভব করতে পারে, বর্ণনা করা তার পক্ষে সম্ভব নয়, আহ! 'মা কারাগারে আর দুধের শিশু ক্ষুদার যন্ত্রণায় বাইরে ছটফট করছে'।
আমি দেখেছি, সদ্য সন্তান জন্মদানকারী মা আমার পাশে বসে আছে, আর স্তন থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় দুধ পড়ে বুক ভেসে যাচ্ছে। আমি এসব দেখেছি শুধু, কোন কিছুই তাদের জন্য করতে পারিনি।
কারাগারে আমাদেরকে নামাজ পড়তে দেয়া হতোনা, হিজাব পরিধান কিংবা ওজু করা আমাদের জন্য অসম্ভব ছিল। তারা আমাদের হলুদ রঙের খুবই ছোট্ট একটি পোশাক পরতে দিতো। তবে এতোসব বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও কারাগারে কিছু উইঘুর মুসলিম যুবতীকে দেখেছি, তারা ইশারা করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছে,নিয়মিত কুরআনে কারিমের তেলাওয়াত করছে এবং রাতদিন আল্লাহকে ডাকছে অথচ তাদের ঠোঁট নিরব, নড়ছেনা।
আরএম/