মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬ ।। ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৩ জিলহজ ১৪৪৭


ঢাকার যাত্রাবাড়ী মাদরাসাসহ সারাদেশে সূর্যগ্রহণের নামাজ অনুষ্ঠিত!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ তামিম।।

রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়াসহ দেশের বিভিন্ন মাদরাসা মসজিদে সালাতুল কুসুফ বা সূর্যগ্রহণ নামাজ আদায় হয়েছে। যাত্রাবাড়ি মাদরাসার প্রায় ১০ হাজার ছাত্র নামাজে অংশগ্রহণ করেছে। সালাতে কুসুফের ইমামতি করেন মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯.৪৫ মিনিট থেকে শুরু করে ১২টা পর্যন্ত চলে এ নামাজ। রাজধানী ঢাকায় সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ সময় (বিএসটি) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে বেলা ২টা ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হয়।

জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়ার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মাসরুর হাসান আওয়ার ইসলামকে জানান, ইসলামে সালাতে কুসুফের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। তাই আমরা এ নামাজ মাদারাসার সব ছাত্রদের নিয়ে আদায় করেছি।

তিনি আরো বলেন, সূর্যগ্রহনের সময় রাসূলুল্লাহ সা. দীর্ঘ করে সালাতে কুসূফ পড়তেন। অন্যদেরকেও পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার আদেশ করেছেন।

নামাজ জিকির, দরুদপাঠসহ গুরুত্বপূর্ণ এ ইবাদতে অংশগ্রহণ করেছেন মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে এ নামাজ আদায় হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের জামিয়া ওবায়দিয়া নানুুুপুর মাদরাসার সব ছাত্র শিক্ষক এ নামাজ আদায় করেন। সালাতুল কুসুুফ আদায় করেছে জামিয়া মাহমুদিয়া চরখরিচা ময়মনসিংহ মাদরাসার ছাত্র শিক্ষক।

বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বরাতে জানা যায়, সিলেটের আত-তাক্বওয়া মাসজিদে আজ সকাল ৯.৩০ মিনিটের এ নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জের ভূইগড় ঈদগাহেও এলাকাবাসীর উদ্যোগে সালাতুুল খুসুফ বা সূর্যগ্রহণের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। রাজশাহীর সাইদপুর এলাকায় মসজিদে আদায় করা হয় সালাতুল কুসুফের নামাজ।

কুসুফ নামাজ আদায় করা হয় যশোরের অভয়নগর উপজেলায়, উপজেলার পীরবাড়ি জামে মসজিদ, নওয়াপাড়া সরকারি হাসপাতাল রোডের বায়তুল আমান জামে মসজিদ, বুইকরা জামে মসজিদ, সরকারি কবরস্থান জামে মসজিদেও নামাজে কুসুফ আদায়ের খবর পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, সূর্যগ্রহণের সময় চন্দ্রটি পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে বলে সূর্যগ্রহণ হয়। ব্যাস এতটুকুই! এখানে কান্নাকাটি করার কি আছে? মজার বিষয় হল,বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় যখন এ বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু হলো, তখন মহানবীর সা. এই আমলের তাৎপর্য বেরিয়ে আসলো।

আধুনিক সৌর বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহ দু’টি কক্ষপথের মধ্যবলয়ে রয়েছে এস্টিরয়ে(Asteroid), মিটিওরিট (Meteorite) ও উল্কাপিন্ড প্রভৃতি ভাসমান পাথরের এক সুবিশাল বেল্ট, এগুলোকে এককথায় গ্রহানুপুঞ্জ বলা হয়।

গ্রহানুপুঞ্জের এইবেল্ট (Belt) আবিষ্কৃত হয় ১৮০১ সালে। এক একটা ঝুলন্ত পাথরের ব্যাস ১২০ মাইল থেকে ৪৫০ মাইল। বিজ্ঞানীরা আজ পাথরের এই ঝুলন্ত বেল্ট নিয়ে শঙ্কিত। কখন জানি এ বেল্ট থেকে কোন পাথর নিক্ষিপ্ত হয়ে পৃথিবীর বুকে আঘাত হানে, যা পৃথিবীর জন্য ধ্বংসের কারণ হয় কিনা?

গ্রহানুপুঞ্জের পাথর খন্ডগুলোর মাঝে সংঘর্ষের ফলে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথরখন্ড প্রতিনিয়তই পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে। কিন্তু সেগুলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে এসে জ্বলে ভস্ম হয়ে যায়। কিন্তু বৃহদাকার পাথর খন্ডগুলো যদি পৃথিবীতে আঘাত করে তাহলে কি হবে?

প্রায় ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে এমনই একটি পাথর আঘাত হেনেছিলো। এতে ডাইনোসরসহ পৃথিবীর তাবৎ উদ্ভিদ লতা গুল্ম সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। আপনজনের (Arizon) এ যে উল্কাপিন্ড এসে পড়েছিলো তার কারণে পৃথিবীতে যে গর্ত হয়েছিলো তার গভীরতা ৬০০ ফুট এবং প্রস্থ ৩৮০০ ফুট।

বিজ্ঞানীরা বলেন, সূর্য অথবা চন্দ্রগ্রহণের সময় ঝুলন্ত পাথরগুলো পৃথিবীতে ছুটে এসে আঘাত হানার আশংকা বেশী থাকে। কারণ হচ্ছে,এসময় সূর্য,চন্দ্র ও পৃথিবী একই সমান্তরালে,একই অক্ষ বরাবর থাকে ।ফলে তিনটির মধ্যাকর্ষণ শক্তি একত্রিত হয়ে ত্রিশক্তিতে রুপান্তরিত হয়।

ঢাকায় সূর্যগ্রহণটি বাংলাদেশ সময় (বিএসটি) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে বেলা ২টা ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হয়।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ