মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৬ মাঘ ১৪৩২ ।। ১ শাবান ১৪৪৭


এবার মুসলিমবিরোধী আইনের প্রতিবাদে রাস্তায় দেওবন্দের নারীরা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আবদুল্লাহ তামিম।।

জ্ঞান ও ঐতিহাসিক বিদ্যাপিঠের শহর দেওবন্দে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধে পুুরুষদের পাশাপাশি শত শত নারী রাস্তায় নেমে এসেছে।

ভারতের ইসলামিক মিডিয়া জানায়, দেশটির বিতর্কিত এনআরসি ও সিএএ বিলের প্রতিবাদে প্লেকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে দেওবন্দের আবুল বারকাত মহল্লা থেকে মাঠে নামেন বোরকা পরিহীতা শত শত মুসলিম নারী।

Image may contain: one or more people, people standing, people walking and outdoor

তাদের হাতে থাকা প্লে কার্ডে বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিলো। তারা মুখে কোনো স্লোগান না দিলেও হাতে হাতে নেয়া ফেস্টুনে লেখা ছিল প্রতিবাদী বিভিন্ন স্লোগান।  ‘মোদী’ নিপাক যাক’,  ‘এনআরসি মানি না মানবো না’, ‘সিএএ মানি না মানবো না’- এসব স্লোগান লেখা ছিল ফেস্টুনে।

Image may contain: one or more people, people walking and outdoor

আরো কয়েকটি স্লোগান সবার নজর কেড়েছে, ‘আমার ভারতে সবার রক্ত মিশে আছে, এ মাটিতে মোদী-শাহের আদেশ চলবে ন চলবে না, সাম্প্রদায়িকতা বন্ধ করুন, করতে হবে।’

প্রতিবাদরত নারীরা ভারত একটি গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ দেশ বলে প্লে কার্ড প্রদর্শন করেন। তারা আরো লেখেন, এদেশের স্বাধীনতা, নির্মাণ ও বিকাশে প্রতিটি ভারতীয় ধর্মববর্ণ নির্বিশেষে সকল ত্যাগ স্বীকার করেছে।আজকে এদেশের বেশিরভাগ মানুষ ভালোবাসা ও সম্পৃতি নিয়ে অটুট বন্ধনে বেঁচে আছে। তাদেরকে সরকার আলাদা করতে চায়। একসাথে থাকুন একে অপরের ব্যথা আনন্দ এবং দুঃখ ভাগ করে নিন, এটাই আমাদের আদর্শ। কিন্তু সরকার এটা চায় না।

উল্লেখ্য, এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি ভারতীয় আইনসভার উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পাস হওয়ায় আইন আকারে গৃহীত হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলো থেকে আসা কেবল অমুসলিমদেরই (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন, শিখ ও পার্সি) নাগরিকত্ব মিলবে।

১৯৫৫ সালের মূল নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে,নাগরিকত্ব পেতে হলে দেশটিতে থাকতে হবে ১১ বছর। তা কমিয়ে এখন পাঁচ বছর করা হয়েছে। সংশোধিত বিলের উদ্দেশ্য প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর অমুসলিমদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া। তবে বিরোধীরা বলছেন,এই বিল মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক।

বিভিন্ন ইসলামপন্থী, বিরোধী ও মানবাধিকার গোষ্ঠীর দাবি, ভারতের ২০ কোটি মুসলমানকে কোণঠাসা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডারই অংশ এই আইন।

উত্তরপূর্ব ভারতের স্থানীয়রা বিভিন্ন কারণে এই আইনের বিরোধীতা করছেন। তাদের আশঙ্কা, এতে বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক হিন্দু অভিবাসীর ঢল নামবে।

ইসলামামিক মিডিয়া থেকে আবদুল্লাহ তামিমের অনুবাদ

-এটি/অঅরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ