আওয়ার ইসলাম: মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী সৌদি আরবের চাপে শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠেয় ‘কুয়ালালামপুর সামিটে’ অংশ নেয়নি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এমনটাই দাবি করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়্যেব এরদোগান।
গতকাল শুক্রবার ডেইলি সাবাহ জানায়, সম্মেলনে অংশ না নিতে পারায় এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মাহাথিরের দপ্তরে দুঃখ প্রকাশ করে বার্তা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধানমন্ত্রী মাহাথির বলেছেন, এটা তার (ইমরান খান) পছন্দ। আমরা কখনোই তাকে জোর করতে পারি না। কেননা ইসলামে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ব্যক্তিগত কোনো কারণে তিনি হয়তো আসতে পারছেন না।
যদিও প্রেসিডেন্ট এরদোগানের দাবি, ‘কুয়ালালামপুর সম্মেলন অংশ না নিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। কেননা সৌদি আরব সেক্ষেত্রে পাকিস্তানকে দেওয়া অর্থনৈতিক সমর্থন তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা দেখতে পাচ্ছি, সৌদি প্রশাসন পাকিস্তানকে একের পর এক চাপ দিয়ে যাচ্ছে। যার মধ্যে বড় ব্যাপারটি হলো- বর্তমানে ৪০ লাখ পাক নাগরিক সৌদিতে কাজ করছেন। তাছাড়া পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিষয়টিতো রয়েছেই।’
এরদোগানের ভাষায়, ‘রিয়াদ এরই মধ্যে ইসলামাবাদকে হুমকি দিয়ে বলেছে- পাকিস্তানিদের ফেরত পাঠানোর পরিবর্তে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়োগ দেওয়া হবে।’
সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে চলতি সপ্তাহে পাক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মূলত এর পরপরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সম্মেলন বাতিলের সিদ্ধান্তটি নেওয়া হলো। চলতি বছরের মে মাসের পর থেকে এখন পর্যন্ত এই দুই নেতা টানা চারবার সাক্ষাৎ করেছেন।
১৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া ‘কুয়ালালামপুর সামিট-২০১৯’ চলবে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। যেখানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি সৌদি আরবকে। বৈঠকে বিশ্বের মোট ৫২টি রাষ্ট্রের প্রায় চার শতাধিক মুসলিম নেতা ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত থাকবেন।
এবার সম্মেলনটির এজেন্ডা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে- উন্নয়ন ও সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও সুশাসন, ন্যায়বিচার ও স্বাধীনতা, সংস্কৃতি ও পরিচয়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শান্তি-সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনার মতো সাতটি বিষয়।
-এটি