বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৩ পৌষ ১৪৩২ ।। ১৮ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
ইত্তিহাদুল উলামা বাড্ডার উদ্যোগে ঐতিহাসিক সীরাত মাহফিল ৯ জানুয়ারি আফগানিস্তানের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ তুর্কি কোম্পানিগুলোর  শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের খতমে বুখারী ও দোয়া মাহফিল ১২ জানুয়ারি শীতে কেন উপকারী খেজুর গুড় জকসু নির্বাচনে চার কেন্দ্রের শীর্ষ তিন পদে এগিয়ে শিবির জেলা দায়িত্বশীলদের প্রতি জমিয়তের একগুচ্ছ নির্দেশনা ‘জামায়াত আমিরের বক্তব্য অজ্ঞতার শামিল, তওবা করা উচিত’ গণভোটের প্রচারে যুক্ত করা হচ্ছে ইমামসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে  বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে ৮ মুসলিমকে মারধর নেপালে মসজিদ ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, কারফিউ জারি

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগে আইন প্রণয়নেরও পরার্মশ দেয়া হয়েছে। তারা বলেছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের বিষয়ে নির্বাহী বিভাগেরও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। এ জন্য বিচার বিভাগের অধীনে পৃথক সচিবালয় এবং বিচারপতি নিয়োগে আইনের প্রয়োজন। নির্বাহী বিভাগ তথা সরকারকেই এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের এক যুগ' শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছাসেবী মানবাধিকার সংগঠন 'হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন' এ সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও সংবিধান বিশ্নেষক মিজানুর রহমান খান। তিনি বলেন, বিচারবিভাগ পৃথকীকরণে আমাদের পলায়নপরতার অবসান ঘটুক। মাসদার হোসেন মামলার অর্জনকে পাথেয় করেই আমাদের পথ চলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ১৫ শতাংশ মানুষ আদালতমুখী হন বলে মামলাজট ৩৬ লাখে এসে দাঁড়িয়েছে। যদি আরও ৮৫ শতাংশ মানুষ আদালতে যেতো তাহলে কি দাঁড়াতো? তাই এ বিষয়ে এখনই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। তিনি সভায় বিচার বিভাগ পৃথককীরণ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ে দেয়া ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের চিত্র বিশ্নেষণ করে তুলে ধরেন।

আলোচনায় বিচারপতি মুহা. আব্দুল মতিন বলেন, ন্যায়বিচার মানে মনিবের আনুগত্য নয়, বরং আইনের আনুগত্য। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বার এবং বেঞ্চের মধ্যে পারস্পরিক আলোচনা করা প্রয়োজন। আমাদের চরিত্রে ও অনুভূতিতে স্বাধীনতার বোধ থাকা প্রয়োজন। তাহলেই সত্যিকারে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আসবে।

তিনি বলেন, আমরা আশাবাদী যে, বিচার বিভাগ স্বাধীন হবেই। আমরা কাকে খুশি করব, কাকে বিরাগভাজন হব, তা না ভেবে আমরা যদি বলি এখানে আইনের শাসন থাকবে, তাহলে আমাদেরই সজাগ থাকতে হবে, দারোয়ানের মতো কাজ করতে হবে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বিচার বিভাগের সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিদের শাসন বিভাগে সম্পৃক্ত করা উচিত না। বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির মতামত প্রাধান্য পেলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্ব হয়। হয়তো বিচার বিভাগ হতে আমরা যতটা চাই ততটা পাই নাই। কিন্ত স্বাধীনতার পর হতে বিচার বিভাগের অর্জন কম নয়।

সংগঠনের চেয়ারম্যান আইনজীবী শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মুহা. আব্দুল মতিন, বিচার বিভাগ পৃথককীরণ সংক্রান্ত মামলার বাদী আলোচিত সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এএম মাহাবুব উদ্দিন খোকন, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ