আওয়ার ইসলাম: আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২৫ আসামির মধ্যে পলাতক চার আসামির সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মুহা. কায়সারুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
যাদের সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয়া হয়েছে- মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও মুজতবা রাফিদ।
গত ১৮ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ডিবি পুলিশের দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত। চার আসামি পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেন। আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে পলাতক রয়েছেন মর্মে উল্লেখ করে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করে। এজন্য আদালত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দেন। এরপর আদালত আগামী ৫ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানি দিন ধার্য করেন।
গত ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মুহা. ওয়াহিদুজ্জামান চার্জশিট দাখিল করেন।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- বহিষ্কৃত বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার, উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররেফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, মো. মনিরুজ্জামান মনির, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, শিক্ষার্থী মো. মুজাহিদুর রহমান ও এএসএম নাজমুস সাদাত, বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইসাতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, শিক্ষার্থী আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শিক্ষার্থী শাসছুল আরেফিন রাফাত, আকাশ হোসেন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা ও এস এম মাহমুদ সেতু, মুহাম্মাদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও মুজতবা রাফিদ।
আসামিদের মধ্যে প্রথম ২১ জন কারাগারে আছেন। আর প্রথম ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শেষের চারজন পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গত ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরদিন ৭ অক্টোবর দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। নিহত আবরার বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন। ওই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে চকবাজার থানায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।
-এএ