আওয়ার ইসলাম: নিয়োগপত্র ও খাবার ভাতাসহ দেয়াসহ ১১ দফা দাবিতে ধর্মঘটে যাচ্ছেন নৌ শ্রমিকরা। শুক্রবার রাত ১২টা থেকে ধর্মঘট শুরুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ১১ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলন করে আসছি। লঞ্চ মালিকপক্ষ শুধু আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন করেনি। গত বুধবারও সরকারের প্রতিনিধির সঙ্গে বসেছিলাম, কিন্তু আবারও আশ্বাস। তাই শ্রমিকরা অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধর্মঘটে যাওয়ার পক্ষে মতামত দেয়ায় আমরা ধর্মঘটে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন করেছিলাম, ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলাম। মালিকপক্ষ বলেছিল, আমাদের দাবিদাওয়া পূরণ করে দেবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো দাবিদাওয়া পূরণ করেনি।
তার অভিযোগের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল ও যাত্রী পরিবহন সংস্থার সদস্য হাম জালাল বলেন, নৌযান শ্রমিকদের মূল দাবিগুলো মেনে নিয়ে লঞ্চ মালিকপক্ষ ২০১৬ সালে নৌযান শ্রমিকদের সঙ্গে পাঁচ বছরের একটি চুক্তি করেছিল। সে চুক্তির মেয়াদ ২০২১ সালে শেষ হবে। তাই তাদের ধর্মঘটে যাওয়া অযৌক্তিক।
তবে শাহ আলম বলেন, ওই সময় ১৫টি দাবির মধ্যে শুধু বেতন স্কেল ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছিল। বাকি ১৪টি দাবি তো পূরণ করা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আখতার হোসেন জানান, বুধবারের সভায় নৌ পরিবহন খাতে নিয়োজিত শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক দেয়ার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে আগামী মার্চের মধ্যে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।
এর আগে শতভাগ খাদ্যভাতা ও সুপেয় পানির খরচ আদায়সহ ১৫ দফা দাবিতে গত ২৬ নভেম্বর থেকে টানা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন নৌযান শ্রমিকরা। পরে শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাসে ২৭ নভেম্বর দুপুরে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়।
-এএ