আওয়ার ইসলাম: বৃহত্তর চট্টলার ঐতিহ্যবাহী দীনি ও সেবামূলক সংগঠন ‘আল আমিন সংস্থা’র ব্যবস্থাপনায় ও আল্লামা শাহ আহমদ শফী সেবা সংস্থার সহযোগিতায় ৩ দিনব্যাপী ঐতিহাসিক তাফসিরুল কুরআন মাহফিল আগামীকাল ২৭ নভেম্বর বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে। হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার তিনদিন চলবে এ মাহফিল।
মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী, আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল্লামা হাফেজ জুনায়েদ বাবুনগরী। প্রধান মুফাসসির হিসেবে তাফসীর পেশ করবেন, আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মুফতি দেলোয়ার দেলোয়ার হোসাইন (ঢাকা), মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী (ঢাকা), মাওলানা আব্দুল বাসেত খান (সিরাজগঞ্জ)।
ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ।কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয় বিবেচনা করে মাইকের আওয়াজ সংকোচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ডিসেম্বর মাসে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়টি ছোট-বড় সব শিক্ষার্থীর নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য আল আমিন সংস্থা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ বিষয়ে মাহফিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের আসন্ন বার্ষিক পরীক্ষা ও অসুস্থ ব্যক্তিদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে গতবারের ন্যায় এবারও মাহফিলে শব্দ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাহফিল চলাকালীন সময়ে শুধুমাত্র প্যান্ডেলে মাইকের ব্যবহার করা হবে। এই বাইরে কোনো মাইক স্থাপন করা হবে না। অতএব, আগ্রহী শ্রোতাদের মাঠে উপস্থিত হয়ে মাহফিল শ্রবণ করতে হবে।
আল আমিন সংস্থার নেতৃবৃন্দ বলেন, এ সংগঠন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে আসছে। সমাজের অনিয়ম-অনাচারের বিরুদ্ধে ও নাগরিক অধিকার আদায়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে নতুন নতুন ও সময়োপযোগী কর্মসূচী নিয়ে সবসময় প্রথম সাড়িতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় মাহফিলে আওয়াজ সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
নেতৃবৃন্দের মতে, আমরা হাটহাজারীতে একটি নতুন ধারা চালু করতে যাচ্ছি জনস্বার্থে ও আগামীর ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে। অন্যরাও আমাদের কর্মসূচির অনুসরণ করবে এবং প্রশাসনও সজাগ দৃষ্টি রাখবে।
আমরা আশা করবো, দেশের অন্য আলেমরা বিষয়টি অনুসরণ করবেন। হাটাহাজারীর এই মাহফিলে দেশের প্রায় উল্লেখযোগ্য আলেমরা অংশ নেবেন। তাদের কাছেও আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন মাহফিলসমূহে মাত্রাতিরিক্ত আওয়াজ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অনুসরণ করার। তাহলে, মাহফিলের আওয়াজ নিয়ে নির্বিচারে সমালোচনার রাস্তা বন্ধ হবে। মাহফিলগুলো আরও বেশি জনমানসে বেশি প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।
এ মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা পেশ করবেন, মাওলানা মামুনুল হক (ঢাকা), মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (ঢাকা), মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী (কুয়াকাটা)।
আরও তাফসির পেশ করবেন, মাওলানা রাফি বিন মুনির (ঢাকা), মাওলানা ইসমাইল খান (মেখল), মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারী (বি-বাড়িয়া), মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমী (ঢাকা), মাওলানা নাছির অাহমদ যুক্তিবাদী (গোপালগঞ্জ),মাওলানা নজির আহমদ টঙ্গী (ঢাকা), মাওলানা হাসান জামিল (ঢাকা),মাওলানা মুফতি মুস্তাকুন্নবী (কুমিল্লা),মাওলানা মুফতি মেরাজুল হক মাজহারি (ঢাকা), মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী (ঢাকা) , মাওলানা হামেদ জাহেরী (ঢাকা)।
কুরআন তিলাওয়াত করবেন, কারী সাইদুল ইসলাম আসাদ ঢাকা। সভাপতিত্ব করবেন আল আমিন সংস্থা সভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী।
আরএম/