আওয়ার ইসলাম: আদালতের নির্দেশে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিহত নাইমুল আবরারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। স্কুলছাত্র আবরারের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ধন্যপুর গ্রামের মাওলানা মুহাম্মদ উল্লার পারিবারিক কবরস্থান থেকে এ লাশ উত্তোলন করে পুলিশ।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নোয়াখালীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলিশায় রিসিলের উপস্থিততে তার লাশ উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার ইন্সপেক্টর মুহা. আব্দুল আলিমসহ পুলিশ চারজন সদস্য।
লাশ উত্তোলনের সার্বিক বিষয় তদারকি করেন, সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিনা পাল ও সোনাইমুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সামাদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন। এছাড়া বৃষ্টির মধ্যে লাশ উত্তোলনের সময় এলাকার কৌতূহলী জনতা কবরস্থানে ভিড় করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, লাশ উত্তোলনের পরে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
এর আগে গত বুধবার (৬ নভেম্বর) ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর হাকিম মুহা. আমিনুল হক আবরারের লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। সেই সঙ্গে আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে তার বাবার নালিশি মামলাটি এক সঙ্গে তদন্ত করতে বলেছেন আদালত।
আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে মোহাম্মদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর হাকিম।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবরারের মৃত্যুতে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে দৈনিকটির সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন এই স্কুলছাত্রের বাবা মুহা. মুজিবুর রহমান। পরে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আবরারের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।
কলেজের নবম শ্রেনীর ছাত্র আবরারের বাড়ি নোয়াখালী। সে সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ধন্যপুর গ্রামের অধিবাসী সৌদি প্রবাসী মজিবুর রহমানের ছেলে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে থাকত।
-এএ