মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটক গ্রহণকারী শহরগুলোর তালিকায় মক্কা পঞ্চম, মদিনা সপ্তম লেবাননে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র ও ফসফরাস বোমা হামলা গুম প্রতিরোধ আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফরিদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ নিহত ২ ড. ইউনূসকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে চায় না জমিয়ত যমুনায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ২ স্কুলছাত্র ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জালেমের বিরুদ্ধে মজলুমের ন্যায়সংগত সংগ্রাম’ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত ৩ উপজেলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবার দক্ষ ইসলামি গবেষক তৈরির উদ্যোগ আস-সুন্নাহর, দিনব্যাপী কর্মশালা ২২ আগস্ট দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ

মাকে না জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন খোকা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: সাদেক হোসেন খোকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। তখন মাতৃভূমির টানে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য নিজের গর্ভধারিনী মা’কে না জানিয়েই গোপনে ভারতের মেঘালয়ের ট্রেনিং ক্যাম্পে চলে গিয়েছেলেন খোকা।

সেখানে ট্রেনিং শেষে ঢাকায় ফিরে আসেন তিনি। তারপর শুরু হয় পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অপারেশন। এ সময় এক ফাঁকে মায়ের সঙ্গে গোপনে দেখাও করেছিলেন তিনি। তারপর ১৯৭১ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় বেশ কয়েকজন সঙ্গীসহ নরসিংদীর শিবপুরে চলে যান খোকা। সেখানে কয়দিন অবস্থানের পর ফের ট্রেনিং নিতে ভারতের আগরতলা যান তিনি।

আগরতলার ২ নম্বর সেক্টরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘মেলাঘরে’ মেজর হায়দারের (পরবর্তীতে কর্ণেল হায়দার) নেতৃত্বে গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন খোকা। মেলাঘর বসবাসের জন্য একেবারেই অনুপযুক্ত ছিল। লালমাটির উঁচু-নিচু পাহাড় ও ঘনজঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল চারপাশ। সৌচকার্য করার জন্য উপযুক্ত কোনো জায়গাও ছিল না। তাই বাধ্য হয়েই জঙ্গলে গিয়ে প্রাকৃতিক কার্য করতে হতো।

এই ক্যাম্পে যারা থাকতেন তাদের বেশিরভাগই ছিলেন ঢাকা শহরের বাসিন্দা। সেখানেই খোকার সাথে পরিচয় হয় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ফতেহ আলী চৌধুরী, আবু সাইদ খান, আতিকুল্লাহ খান মাসুদ, নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, শাহাদাত চৌধুরী, গাজী গোলাম দস্তগীর, শহিদুল্লাহ, শিল্পী শাহাবুদ্দিন, কাজী ভাই, উলফৎ, মাসুদ, সুলতান উদ্দিন রাজা, পল্টনের মানিক (শহীদ), মিজান উদ্দিন আহমেদ ও বাকীর (শহীদ)। তাদের কারোরই পূর্বে এমন পরিবেশের সাথে থাকার অভিজ্ঞতা ছিলো না।

সেখানে তিন সপ্তাহ গেরিলা ট্রেনিং শেষে পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন গাফফারের নেতৃত্বাধীন সাব-সেক্টরে সম্মুখযুদ্ধের ট্রেনিং গ্রহণ করেন খোকা। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লার কসবায় (বর্তমান ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা) সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বর্ণালী দিনগুলো’ প্রবন্ধে সাদেক হোসেন খোকা লিখেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা স্বপ্ন যা বলি না কেনো সেটা শুধুমাত্র একটি ভুখন্ডের স্বাধীনতা নয়, সার্বিক মুক্তিই ছিল এ যুদ্ধের প্রধান উদ্দেশ্য। আমাদের এই মহান যুদ্ধ সংঘঠিত হয়েছিল মূলত জাতির সামগ্রিক মুক্তির লক্ষ্যে। যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা আমাদের এই দেশকে গড়ে তোলা ও সুন্দর আগামীর কথা ভাবতে পারি।’

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ