আওয়ার ইসলাম: রাজধানীর রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে কিশোর আলোর বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈমুল আবরারের মৃত্যুর সময়ের ফুটেজসহ ৪ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। শনিবার দুপুর থেকে বিক্ষোভ করে ও ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, যখন মঞ্চে গান চলছিল তখন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় আবরার। তাকে সেখান থেকে মহাখালীর ইউনিভার্সেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন।
সহপাঠীদের অভিযোগ আবরারকে স্কুলের আশেপাশে থাকা হাসপাতালে না নিয়ে মহাখালীতে নিয়ে যাওয়াতেই সে মারা গেছে। এছাড়াও ঘটনাটি দীর্ঘসময় গোপন করে অনুষ্ঠান চালিয়ে যায় কিশোর আলো কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো— ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে; অনুষ্ঠানের অব্যবস্থাপনার দায় স্বীকার করে কিশোর আলো, অনুষ্ঠানের আয়োজক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত বিবৃতি দিতে হবে; ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে; এবং কেবল দুর্ঘটনা নয়, কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কথা উল্লেখ করে পত্রিকায় বিবৃতি দিতে হবে।
নাঈমুল আবরারের মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে সহপাঠীদের মাঝে। মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পরে রাতেই বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। আবরারের সহপাঠীদের একজন জানান, তাকে যখন অ্যাম্বুলেন্সে নেয়া হয় তখনও তার প্রাণ ছিল। তার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি কাউকে জানতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তার বাবা-মা ও কলেজ কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়নি। রাতের মাঝেই কলেজ ক্যাম্পাসে জানাজা পড়িয়ে লাশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে আবরারের গ্রামের বাড়িতে।
মহাখালী ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, বিকেল ৪টার কিছু সময় পরেই হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয় আবরারকে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় আবরারের পরিবারের সদস্যরা ও স্কুল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে ছিলেন।
রাতে মোহাম্মদপুর থানার সহকারী পরিদর্শক (এসআই) বলেন, রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাঠে কিশোর আলোর অনুষ্ঠানে বিকেলে আবরার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। সেখান থেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত আবরারের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না করায় তার লাশ হস্তান্তর করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে হাসপাতালে লাশ হস্তান্তরের সময়ে পুলিশ, স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অনুষ্ঠানের আয়োজক পক্ষের লোকজন উপস্থিত ছিল বলেও জানান তিনি।
এদিকে নাঈমুল আবরার রাহাতের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে শনিবারের পূর্বনির্ধারিত শিক্ষা সফর বাতিলের কথাও জানানো হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামীম ফরহাদ এটিকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আবরারের মৃত্যুতে যদি কারও অবহেলা পাওয়া যায় তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরএম/