আওয়ার ইসলাম: আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা হাফেজ নুরুল ইসলাম বলেছেন, আকীদায়ে খতমে নবুওয়ত হলো মুসলমানদের ঈমান। যারা খতমে নবুওয়ত অস্বীকার করে, কুরআন, হাদীস ও ইজমায়ে উম্মাহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা কাফের।
আজ রোববার সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর ভারতীয় এজেন্ট, পাঞ্জাবের মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী মিথ্যা নবুয়তের দাবি করে খতমে নবুওয়তকে অস্বীকার করেছে। তার অনুসারীরা আহমদীয়া মুসলিম জামাত নাম দিয়ে কাদিয়ানী মতবাদ সৃষ্টি করে সরলমনা মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে ঈমানহারা করছে।
তাদের এ জঘন্য ষড়যন্ত্র সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম দীর্ঘ দিন থেকে সরকার ও দেশবাসীকে সতর্ক করে আসছে। কিন্তু সরকার কোন কর্ণপাত করছে না বরং কাদিয়ানীদের সেল্টার দিচ্ছে।
আল্লামা নুরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের অনেকগুলো মুসলিম সংস্থা ও দেশ কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করেছে। ইসলামের শ্বাশত আকীদা-বিশ্বাস আর কাদিয়ানীদের জাল ও বিকৃত আকীদা বিশ্লেষণ করে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার সুপ্রিম কোর্ট, কাদিয়ানী বা আহমদীয়াদেরকে মুসলিম সমাজ-বহির্ভূত একটি অমুসলিম ধর্মাবলম্বী বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাই তারা নামাজ, রোজা, মসজিদ, ইমাম ইত্যাদি ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার করতে পারবে না। তাদের ঈমান আকীদা বিকৃত বই পুস্তক প্রচার প্রকাশনা নিষিদ্ধ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অনেক রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো আন্দোলন নেই। কাদিয়ানীরা সংখ্যালঘু, কিন্তু তারা নিজেদের পরিচয় 'মুসলমান' দিয়ে থাকে।
এজন্যই খতমে নবুওয়ত তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। সরকার যদি তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম সংখ্যালঘু ঘোষণা করে চিহ্নিত করে দেয়, তাহলে অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মত দেশের নাগরিক হিসেবে তারাও শান্তিতে বসবাস করতে পারবে, এতে কারো কোনো আপত্তি থাকে না।
তিনি বলেন, কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার আন্দোলনকে আরো জোরদার করার জন্য তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তকে মজবুত করতে হবে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মাওলানা হাফেজ আতাউল্লাহ হাফেজ্জীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পাটির আমির মাওলানা সরোয়ার কামাল আজিজী, সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী।
শায়খুল হাদীস মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, খতমে নবুওয়ত নেতা মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী।
মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মুসা বিন ইযহার, মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, মাওলানা আবুল কাসেম, মাওলানা ইউনুস ঢালী, মাওলানা আশেকুল্লাহ, মাওলানা নোমান কাসেমী, মাওনানা শিব্বির আহমদ।
মাওলানা এনামুল হক মুসা,মাওলানা মুমিনুল ইসলাম , মাওলানা রাশেদ বিন নুর, মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান, মাওলানা আবদুর রশিদ, মাওলানা রওশন জমিল প্রমূখ। সম্মেলনের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
-এটি