আওয়ার ইসলাম: 'বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ যে কতোটা ভারী সেটা যে ব্যাক্তির কাধে তার সন্তানের লাশ উঠেছে সে ছাড়া আর কেউ বুঝতে পারবে না'
সোমবার (৭ অক্টোবর) রাত তখন ৯টা ৪৫ মিনিট। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রধান ফটকের পাশে লাশবাহী গাড়িতে আবরার ফাহাদের মৃতদেহ। প্রিয় সন্তানের পাশে নির্বাক দাঁড়িয়ে বাবা বরকত উল্লাহ্। বাবার মোবাইলে ফোন কল আসে। তিনি কল ধরে কেঁদে ওঠেন। এরপর অসহায় বাবার আর্তনাদ, আমার এ কী হলো? আমার নিরীহ ছেলেটাকে পিটিয়ে মেরে ফেলল। যারা আমার ছেলেকে পিটিয়ে মারল, তাঁদের আমি ফাঁসি চাই।
রাত দশটার দিকে বুয়েটের কেন্দ্রীয় মসজিদে আবরার ফাহাদের জানাজা হয়। এরপর তাঁর লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ছুটতে থাকে কুষ্টিয়ায় নিজ গ্রামের দিকে। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন আবরারের বাবা।
রাত সাড়ে নয়টার পর বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের লাশ আনা হয় বুয়েটের কেন্দ্রীয় মসজিদের প্রধান ফটকের সামনে। লাশ আনার খবর পেয়ে মসজিদের সামনে জড়ো হতে থাকেন আবরারের বন্ধু, সহপাঠী ও বুয়েটের শিক্ষার্থীরা। সেখানে ছিলেন আবরারের বাবা। তিনি বললেন, কখনো কল্পনাও করিনি আমার ছেলের এমন পরিণতি হবে। আমার ছেলে হত্যাকাণ্ডের শিকার হবে। আমি করতাম আওয়ামী লীগ। আমার বাবাও আওয়ামী লীগ করেন। আমার ছেলে কোনো রাজনীতি করত না।
ছেলে আবরারের সঙ্গে বাবা বরকত উল্লাহর শেষ কথা হয় গতকাল, মুঠোফোনে। বরকত উল্লাহ বললেন, আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল দেশের সেবা করবে। লেখা পড়া শেষ করে বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে আবার দেশে ফিরে আসবে।
আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাঁর মা গৃহিণী। বরকত উল্লাহ বললেন, আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার করা হোক। দোষীদের ফাঁসি চাই। তিনি জানান, আবরার ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। বুয়েট ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলজে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল সে।
উল্লেখ্য, ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়ার জের ধরে আবরার ফাহাদকে রবিবার (৬ অক্টোবর) রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দুইতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আবরারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এদিকে, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার দিনভর বিক্ষোভ করেন শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে বুয়েটের অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। এদের মধ্যে সহপাঠীর মৃত্যুতে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
আরএম/