মু. আতাউর রহমান আলমপুরী, নিজস্ব প্রতিনিধি: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সকলকে দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাহাবিওয়ালা জীবন গঠন করতে হবে। তাদের জীবন থেকে শিক্ষা অর্জন করতে হবে। নিজেদের মধ্যে ত্যাগ ও কুরবানির অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
তিনি বলেন, ইসলামী হুকুমত ও সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো ভূখণ্ডে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এমনকি ইসলামি হুকুমত ও সাহাবিদের অনুসরণ না থাকলে মুসলিম রাষ্ট্রের নিরাপত্তাও হুমকির মধ্যে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) ঢাকার দারুল উলুম মাদানি নগর মাদরাসা সংলগ্ন বটতলা চত্ত্বরে ঐতিহাসিক শানে সাহাবা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
আল্লামা বাবনুগরী বলেন,আদর্শিক,আধ্যাত্মিক ও সামাজিক, গুণাবলী অর্জন করার পাশাপাশি নীতি নৈতিকতাও অর্জন করতে হবে। একজনের ওপর অপরজনকে অগ্রাধিকার দেয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের আদর্শিক চরিত্রকেও সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে তবেই দেশ ও জাতি এ দুর্দিন থেকে মুক্তি পেতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের ইসলামি হুকুমত ও সাহাবিওয়ালা জিন্দেগির বিপরীতে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ শিক্ষা দেয়া হচ্ছে অথচ এ ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ শব্দটিই একটি ধোঁকাবাজি শব্দ। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের ভিতর রয়েছে পুরোপুরি ধোঁকা। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের নামে প্রতিনিয়ত মুসলিম হত্যা ও নির্যাতন প্রত্যক্ষ করছে সারা পৃথিবী। সম্প্রতি সেখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে জয় শ্রীরাম না বলার অপরাধে চরম মুসলিম নির্যাতন ও হত্যাকান্ড।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘ইসকন’ আমাদের প্রিয় জন্মভুমি বাংলাদেশে বসে বসে ইসলামের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে চট্রগ্রামের ১০টি স্কুলের শত শত মুসলিম শিশুদেরকে হিন্দুদের দেব দেবীর নামে উৎসর্গিত প্রাণীর গোস্তের তৈরি খাবার খাওয়ানো হয়েছে এবং মুসলিম শিশুদেরকে জয় হরি রাম শ্লোগান দেয়ার জন্য উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো এ সকল অপকর্মগুলো করা হচ্ছে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের নাম দিয়ে। সুতরাং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ হচ্ছে একটি ধোঁকাবাজি ও কুফরি মতবাদ যার প্রবক্তা হলো ইসলাম বিদ্বেষি দাঙ্গাবাজ হিন্দুত্ববাদিরা।
সারাদেশ থেকে আগত সাহাবা প্রেমিক মাদরাসার ছাত্র শিক্ষক এবং ওলামায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে তিনিআরও বলেন, বতর্মান মিডিয়ার যুগ, আর এ মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে নাস্তিক-বেঈমানরা দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর অপূরনীয় ক্ষতি করে চলেছে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সকল উলামায়ে কেরামকে এ কথা উপলব্ধি করতে হবে।
“ওয়াজের ময়দান, মসজিদের মিম্বার ও মাদরাসার দরসেগাহ সমূহ হল আমাদের জন্য একটি বড় মিডিয়া। তাকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে দেশ,জাতি ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর সকলেই উপকৃত হবে, এর পাশাপাশি সকল মত ও পথের উলামায়ে কেরামদেরকে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্মে আসতে হবে,কারন আমরাতো নীতি-অনৈতিকতা, আকিদা-বিশ্বাস ও আদর্শের বেলায় এক ও অভিন্ন সুতরাং আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই।” বলেলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।
মারকাজুস সাহাবা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা শামিম আল আরকামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন মারকাজুস শায়েখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, শায়খুল হাদীস আল্লামা মুফতি মিজানুর রহমান সায়িদ।
দারুল উলুম মাদানি নগর মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লাহ সন্ধিপি, খতিবুল উম্মাহ মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকি, বিশ্বজয়ি হাফেজ মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, মারকাজুল কোরআন ওয়াসসুন্নাহর পরিচালক ও মাদানি নগরের নেদাউল কোরআন মাদরাসার সিনিয়র ওস্তাদ মাওলানা মোহাম্মদ আবু রায়হান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরএম/