শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮


শায়খ মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহ.: উপমহাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্কারের পথিকৃৎ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ ইমরান
তরুণ আলেম ও গবেষক

শায়খ আহমদ সিরিহিন্দি। পিতা শায়খ আবদুল আহাদ। শায়খ আবদুল আহাদ ছিলেন মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমর রা.-এর ষড়বিংশ বা সপ্তবিংশতম অধস্তন পুরুষ। মুজাদ্দিদে আলফে সানী ১৫৬৩ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন। হিফজুল কুরআনের মাধ্যমে তার পড়াশোনার হাতেখড়ি। প্রাথমিক শিক্ষা পিতার নিকট সমাপ্ত করেন।

শিয়ালকোটে মাওলানা শাহ কামাল কাশ্মীরীর নিকট দর্শন, তর্কশাস্ত্র, কালামশাস্ত্র, ও উসূলে ফিকহের ওপর গভীর পান্ডিত্য অর্জন করেন। শায়খ ইয়াকুব কাশ্মীরি থেকে হাদীসের জ্ঞান লাভ করেন। শায়েখ বাহলুল বদখশানী থেকে তাফসীর ও ফিকাহ শাস্ত্রে জ্ঞান অর্জন করেন। পিতার নিকট চিশতীয়া ও কাদরিয়া তরিকা চর্চা করেন এবং পূর্ণ কামালিয়্যাত অর্জন করে শাহ সিকান্দার ও শাহ কামাল থেকে খিলাফত লাভ করেন। তৎকালীন নকশবন্দিয়া তরিকার প্রধান পৃষ্ঠপোষক খাজা বাকী বিল্লাহ থেকে খেলাফত লাভ করেন।

শায়খ খাজা বাকিবিল্লাহ রহ.-এর নিকট থেকে নকশবন্দিয়া তরিকায় খেলাফত লাভ করার পর স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করেন।
একদিন তিনি স্বীয় হুজরার মধ্যে ফজরের নামাজের পর মোরাকাবায় মশগুল। এমন সময় রাসূলে কারীম সা. রূহানীভাবে সমস্ত আম্বিয়া, অসংখ্য ফেরেশতা এবং আওলিয়ায়ে কেরামসহ সেখানে তাশরিফ আনেন।

তারপর নিজ হাতে তাঁকে খিলআত অর্থ্যাৎ স্বীয় প্রতিনিধিত্বের প্রতীক স্বরূপ এক বিশেষ পোষাক পরিয়ে দেন এবং বলেন, শায়খ আহমদ! মুজদ্দিদের প্রতীকস্বরূপ আমি তোমাকে এই খিলআত পরিয়ে দিলাম এবং দ্বিতীয় সহস্রাব্দের জন্যে তোমাকে আমার বিশেষ প্রতিনিধি মনোনীত করলাম।

উপমহাদেশে ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর চরম দুর্দিনে এক সংকটময় মুহুর্তে তার আগমন। বহু ধর্ম অনুসারীদের আবাসভূমি ভারতে ক্ষমতার সিংহাসনকে নিস্কণ্টক করে তোলার জন্য প্রচলিত সকল ধর্মের উপাদান মিশ্রিত করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু ধর্মের উপাদানকে প্রধান্য দিয়ে বাদশাহ আকবর দীনে এলাহী নামে নতুন একটি মতবাদ চালু করেন।

এসময় ইরানি শিয়াদের প্ররোচনায় কুরআন সুন্নাহর শিক্ষাকে গ্রিক দর্শনভিত্তিক শিক্ষাধারায় রূপান্তরিত করেন। দরবারি মোল্লারা বাদশার মনোরঞ্জনে লিপ্ত হওয়ায় জনসাধারণ প্রকৃত ইসলামি কালচার ও শিক্ষাচ্যুত হয়ে প্রাচ্যের বাতিল দর্শন ও হিন্দুয়ানী দর্শনের মিশ্রণে এবং বিদআত ও কুসংস্কারে লিপ্ত ছিল।

তাসাউফ, যা মূলত কুরআন সুন্নাহ ভিত্তিতে প্রবর্তিত ছিল। প্রাচ্যদেশীয় বিভিন্ন ধর্মদর্শনের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে সকল ধর্ম ও দরà§