জুবায়ের রশীদ
তরুণ আলেম ও লেখক
অর্থনীতির পরিভাষায়, যারা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানায় কর্মকর্তার অধীনে শ্রমিক-কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন, তারাই শ্রমিক-শ্রমজীবী মানুষ। আর যারা শ্রমিকদের কাজে নিয়োগ করেন, তাদের নিকট থেকে যথাযথভাবে কাজ আদায় করেন এবং শ্রমের বিনিময়ে মজুরি বা বেতন-ভাতা প্রদান করেন, তারাই মালিক
মানুষ ও রাষ্ট্রের উন্নতির চাবিকাঠি হলো শ্রম। যে জাতি যত বেশি উদ্দমী ও পরিশ্রমী, সে জাতি তত বেশি উন্নত ও সমৃদ্ধ। একজন দিনমজুরের শ্রম, কৃষকের শ্রম, শিক্ষকের শ্রম, অফিসারের শ্রম, ব্যবসায়ীর শ্রম সবই সমান মর্যাদার অধিকারী। শ্রমের মর্যাদা সমাজের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করে। রাষ্ট্রকে উত্তরোত্তর এগিয়ে নিয়ে যায় উন্নতির শিখরে।
শ্রমের ব্যাপারে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, অতঃপর যখন নামাজ শেষ হবে, তখন তোমরা জমিনের বুকে ছড়িয়ে পড় এবং রিজিক অন্বেষণ কর। (সূরা: জুমা, আয়াত-১০)
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম মানুষ হলেন নবী ও রাসুলগণ। যুগে যুগে অসংখ্য নবী ও রাসুল প্রেরিত হয়েছেন। তারা সকলেই শ্রম দিয়েছেন। শ্রমিক ছিলেন। শ্রমিক শব্দটি কখনোই অবহেলা, অসম্মান ও ভালোবাসার অপাত্র নয়। তারা সুন্দরের নির্মাতা।
হযরত আবু হুরাইরা রা থেকে বর্ণিত তিনি নবীজি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা যত নবী রাসুল পাঠিয়েছেন সকলে ছাগল চরিয়েছেন। সাহাবীগণ বললেন হে আল্লাহর রাসূল আপনিও কি চরিয়েছেন ? তখন রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন হ্যাঁ! আমি কয়েক কেরাতের বিনিময়ে মক্কাবাসীদের ছাগল চরিয়েছি। (শ্রম খেটেছি)। (বুখারী, খন্ড, ১ পৃষ্ঠা নং, ৩০১ হাদীস, ২২০৭)
অন্যত্র নবীজি বলেন, কারও জন্য নিজ হাতের উপার্জন অপেক্ষা উত্তম আহার্য বা খাদ্য আর নেই। আল্লাহর নবী দাঊদ আলাইহিস সালাম নিজ হাতের কামাই খেতেন (বুখারী, খন্ড, ১ পৃষ্ঠা নং, ২৭৮ হাদীস, ২০২৫)
হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ৮/১০ বছর শ্রম খেটেছেন। হযরত উতবাহ ইবনে নুদ্দার রা: থেকে বর্ণিত বলেন: একদা আমরা রাসূল সা এর দরবারে উপস্থিত ছিলাম সে সময় তিনি সূরা 'তা সীন মিম' তেলাওয়াত করতে করতে মুসা আ: এর ঘটনা পর্যন্ত পৌঁছেছেন, তখন রাসুল সা বলেছেন যে, আল্লাহর নবী হযরত মুসা আ: ও নিজের লজ্জা স্থানের হেফাজত ও পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য ৮/১০ বছর শ্রম খেটেছেন। (মেশকাত, পৃষ্ঠা নং, ২৫৮)
শ্রমিকের অধিকার আদায়ে রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। তার কালজয়ী বাণী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। ইসলাম ও ইসলামের নবী শ্রমিককে যে অধিকার দিয়েছেন আ