বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ।। ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ২২ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
যে কারণে কওমি মাদরাসা আপনার জাকাত ও দানের বেশি হকদার যুব সংগঠক আমিনুল ইসলাম সাদীকে জাতীয় পদকে ভূষিত করার দাবি ‘নিরাপদ অভিবাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন আলেমরা’ নানুপুর মাদরাসায় ৪০ দিনের ইতেকাফে প্রায় তিন হাজার মুসল্লি শুরু হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর টেকনাফে কওমি পড়ুয়া আব্দুল্লাহ সাঈদের ধারাবাহিক সাফল্য ‘দলীয় স্বার্থ বিবেচনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন পেছানো একটি ফ্যাসিবাদী প্রবণতা’ হবিগঞ্জ ইকরা শিশুদের যুদ্ধবিরোধী অভিনব প্রতিবাদ ঢাকা-১৩সহ ৫ আসনের ব্যালট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের সরকার জাতিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ভুলিয়ে দিতে চায়: আমিরে মজলিস

লায়লাতুল কদরের খোঁজে যেখানে টানা ৫ রাত জাগেন মুসল্লিরা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: লাইলাতুল কদর পালনে ২৭ রমজানের রাতকেই নির্দিষ্ট করে নিয়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম। তবে ব্যতিক্রম ভারতের এ এলাকা। যেখানে টানা ৫ বিজোড় রাতে ইবাদত করা হয়।

হাদিসে এসেছে রমজানের শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতে লায়লাতুল কদরের খোঁজ করার কথা। সে অনুযায়ী কলকাতার এয়ারপোর্ট থানার সলুয়া মুসলিম পাড়ার মানুষ টানা ৫ রাত ইবাদতে কাটান।

এখানকার রোযাদাররা তারাবি নামাজ পড়ে বাড়ি যান। তারপর মসজিদ বা মাদরাসায় ফিরে এসে শুরু হয় আল্লাহর কাছে নিজের আবেদন নিবেদন করা। অনেকে আবার সন্ধ্যা রাত থেকে সাহরী পর্যন্ত থাকেন মসজিদে।

এখানে শতশত মুসলিম রাত জাগেন। গভীর রাত পর্যন্ত কুরআন, হাদিসের আলোচনা হয়। তারপর ব্যাক্তিগত উপাসনার জন্য মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।

মসজিদের ইমাম, সম্পাদক সহ সকলেই রাত জাগেন। অনেকে এতেকাফ করছেন। ইমাম মাওলানা সাহার আলি বলেন, রমজান মাস পাপ মোচনের মাস। নিজেকে পরিশুদ্ধ করার এটি একটি সুযোগ।

আর মসজিদের সম্পাদক শাজাহান শাহ ও সভাপতি মুহাম্মদ আলি জানান, প্রতি বছরই এমনটি হয়। আমরা এক সাথে আল্লাহর দরবারে নিজেদের মনের কথা বলি। গোটা গ্রাম রাত জাগেন, খুব ভালো লাগে।

হেঁসেল সামলিয়ে মহিলারাও রাত জাগেন। শিশুরাও মায়েদের সাথে যান। অনেকে আবার শিশুদের ঘুম পাড়িয়ে যিকিরে মশগুল হোন, সারারাত আল্লাহকে ডাকেন। এখানেও ইসলামি আলোচনা হয় ও শেষে ব্যাক্তিগত যিকির ও দুআ।

ছোট বড় সব বয়সের মানুষ লায়লাতুল কদরের খোঁজে রাত জাগেন। মাঝে মাঝে ইসলামি সংগীত হয়। ফলে ঘুম তেমন আসে না। প্রতিটি মুহূর্ত নতুন কিছু বার্তা দিয়ে আকর্ষণ বাড়ায় মুসলিমদের।

ইসলামি সংগীত শিল্পী সাইয়াজ হোসেন বলেন, আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর আগে আমাদের এলাকার গুটিকতক যুবক মিলে কদরের সন্ধানে পাঁচটি রাত জাগা শুরু করি। তারপর আজও চলছে। তবে এখন গোটা এলাকা কদরের রাতের সন্ধানে জাগছে, খুব ভালো লাগে।

মোবাইলকে ইসলামের আলোয় সাজাতে ইনস্টল করুন ইসলামী যিন্দেগী

তিনি আরও বলেন, এক সময় প্রচলিত ছিল ২৭ রমজানই লায়লাতুল কদরের রাত। কিন্তু আমরা জেনেছি, শেষ দশ দিনের বিজোড় রাতের যেকোন একটি রাত কদরের রাত হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনও একটি রাত নয়, প্রতিটি বিজোড় রাত জাগছি যাতে কদরের রাত হাত ছাড়া না হয়। আল্লাহর ইচ্ছা হলে কদর পেয়ে যেতে পারি।

এলাকায় আগে থেকেই রমজানকে স্বাগত জানিয়ে দেওয়ালে দেওয়ালে কুরআনের বাণী লেখা থাকে। প্রতিদিন গোটা পাড়া এক সাথে মসজিদে ইফতার করে। আবার রোজার মধ্যেই ঈদ মিলনী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

প্রতি বছরের মতো এবারও আগামী ৩০ জুন সলুয়া মাদরাসাতে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে ঐক্য আনতে ঈদমিলনী সভা করবে এলাকার মানুষ।

সূত্র: টিডিএন, কলকাতা


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ