বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ৩০ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৬ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
‘ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবেন না বলে জানিয়েছেন জামায়াত আমির’ ভুল সংবাদের ভিত্তিতে ইসি শোকজ করেছে: মাওলানা মামুনুল হক এলপিজি গ্যাসের সংকট মোকাবেলায় সরকারের বড় পদক্ষেপ  ইসিতে শুনানির পঞ্চম দিনে আরও ৭৩ প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর বিজিবিতে নিয়োগ পেয়ে যা বললেন ফেলানীর ছোট ভাই ইসলামী আন্দোলনের আমীর সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করতে কাউকে অনুরোধ করেন নাই কুষ্টিয়ায় শীতার্তদের দ্বারে দ্বারে ‘রেডিয়েন্ট সার্কেল’ বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসে গুলি লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়ায় তাকমীল জামাতের সমাপনী দরস অনুষ্ঠিত

আফগানিস্তানে হাফেজদের ওপর হামলার কৌশল ছিল ঝুঁকিপূর্ণ : জাতিসংঘ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম :  আফগানিস্তানের একটি মাদরাসায় কোরআনে হাফেজ শিশুদের পাগড়ি পরানোর অনুষ্ঠানে সরকারি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

এতে বলা হয়েছে, আফগান বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে রকেট হামলা ও ভারী মেশিনগানের গোলাবর্ষণে অন্তত ১০৭ শিশু হতাহত হয়েছিল। গত ২ এপ্রিল উত্তরাঞ্চলীয় শহর কুন্দুজের দাস্ত-ই-আর্চি জেলার ওই মাদরাসায় হামলার ঘটনা ঘটে।

সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের উপদেষ্টাদের হামলা চালানোর নতুন এ কৌশলকে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। গত বছর থেকেই আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে আফগান বিমান বাহিনীকেও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে যাচ্ছে।

কিন্তু তালেবানের সঙ্গে অচলাবস্থা ভাঙতে তাদের রকেট সজ্জিত বিমান হামলার অধিকাংশ শিকার হচ্ছেন দেশটির বেসামরিক লোকজন। তালেবান অভিযোগ করেছিল, আফগান বাহিনীর হামলায় অন্তত ২০০ শিশু নিহত হয়েছে। তবে জাতিসংঘ ৩০ শিশুর নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে।

আফগানিস্তানে ইউএন অ্যাসিসট্যান্স মিশন জানায়, তাদের এ প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে- ধর্মীয় সমাবেশে হামলা চালাতে সরকারি বাহিনী রকেট ও ভারী মেশিনগান ব্যবহার করছে। এতে ব্যাপকসংখ্যক শিশু হতাহত হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে ৩০ কোরআনে হাফেজসহ অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৭১টি শিশু আহত হয়। এতে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সরকারি বাহিনীর পূর্ব সমীক্ষা ও ব্যাপক বৈষম্যমূলক হামলা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে ১০৭টি হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু সেখানে দুই শতাধিক হতাহত হয়েছে বলে দাবি অধিকাংশ প্রত্যক্ষদর্শীর।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে, এ হামলায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, তা নির্ধারণ করা কঠিন কাজ। ঘটনার গুরুত্বানুসারে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত মাসে ওই হামলার পর আফগান সরকার বলেছিল, পাকিস্তানের কোয়েটা শহরভিত্তিক সন্ত্রাসীদের জ্যেষ্ঠ নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের লক্ষ্যবস্তু করেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোরআনে হাফেজদের দস্তার বন্দি অনুষ্ঠানে বহু লোকজন জমায়েত হয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ করেই আফগান সামরিক বিমান থেকে রকেট নিক্ষেপ ও ভারী মেশিনগান দিয়ে গোলাবর্ষণ করা হয়।

জাতিসংঘ জানায়, মাদরাসার কাছাকাছি একটি ফুটবল মাঠের সমান উন্মুক্ত স্থানে ওই দস্তার বন্দি অনুষ্ঠান হচ্ছিল। তখন সেখানে বিপুল লক্ষ্য করে ১২টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

হামলা শুরু হওয়ার পর লোকজন পালাতে চেষ্টা করলে তাদের টার্গেট করে মেশিনগান থেকে গুলি ছোড়া হয়। প্রতিবেদন বলছে, এসব লোকজন যে বেসামরিক, হামলার সময় তা বিবেচনায় না রেখেই তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি ছোড়া হয়।

এ ঘটনার পর দেশটির সরকার স্বীকার করেছে, বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি একটি তদন্তেরও নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু সেই তদন্ত এ পর্যন্ত আলোরমুখ দেখেনি।

দাস্ত-ই-আর্চিতে হামলার আগে বিমান হামলায় বেসামরিক লোকজন হতাহত নিয়ে জাতিসংঘ হুশিয়ারি করেছিল। গত মার্চ থেকে তার আগের তিন মাসে আফগান সরকারি বাহিনীর হামলায় ৬৭ নিহত ও ৭৫ জন আহত হয়েছিলেন।

আরো পড়ুন : রাজীবের দুই ভাইকে ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ