আওয়ার ইসলাম : আফগানিস্তানের একটি মাদরাসায় কোরআনে হাফেজ শিশুদের পাগড়ি পরানোর অনুষ্ঠানে সরকারি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
এতে বলা হয়েছে, আফগান বাহিনীর হেলিকপ্টার থেকে রকেট হামলা ও ভারী মেশিনগানের গোলাবর্ষণে অন্তত ১০৭ শিশু হতাহত হয়েছিল। গত ২ এপ্রিল উত্তরাঞ্চলীয় শহর কুন্দুজের দাস্ত-ই-আর্চি জেলার ওই মাদরাসায় হামলার ঘটনা ঘটে।
সোমবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের উপদেষ্টাদের হামলা চালানোর নতুন এ কৌশলকে ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। গত বছর থেকেই আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে আফগান বিমান বাহিনীকেও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে যাচ্ছে।
কিন্তু তালেবানের সঙ্গে অচলাবস্থা ভাঙতে তাদের রকেট সজ্জিত বিমান হামলার অধিকাংশ শিকার হচ্ছেন দেশটির বেসামরিক লোকজন। তালেবান অভিযোগ করেছিল, আফগান বাহিনীর হামলায় অন্তত ২০০ শিশু নিহত হয়েছে। তবে জাতিসংঘ ৩০ শিশুর নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে।
আফগানিস্তানে ইউএন অ্যাসিসট্যান্স মিশন জানায়, তাদের এ প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে- ধর্মীয় সমাবেশে হামলা চালাতে সরকারি বাহিনী রকেট ও ভারী মেশিনগান ব্যবহার করছে। এতে ব্যাপকসংখ্যক শিশু হতাহত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে ৩০ কোরআনে হাফেজসহ অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৭১টি শিশু আহত হয়। এতে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সরকারি বাহিনীর পূর্ব সমীক্ষা ও ব্যাপক বৈষম্যমূলক হামলা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে ১০৭টি হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু সেখানে দুই শতাধিক হতাহত হয়েছে বলে দাবি অধিকাংশ প্রত্যক্ষদর্শীর।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন বলছে, এ হামলায় আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, তা নির্ধারণ করা কঠিন কাজ। ঘটনার গুরুত্বানুসারে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত মাসে ওই হামলার পর আফগান সরকার বলেছিল, পাকিস্তানের কোয়েটা শহরভিত্তিক সন্ত্রাসীদের জ্যেষ্ঠ নেতারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের লক্ষ্যবস্তু করেই ওই হামলা চালানো হয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনà