মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৮ পৌষ ১৪৩২ ।। ২৪ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আর কখনও রাতের ভোট হবে না: আলী রীয়াজ এবার খামেনির পক্ষে ইরানের রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ! কায়কোবাদকে ফের সংসদে দেখতে চায় মুরাদনগর উপজেলা জমিয়ত ‘তিন ভাই মিলে খুন করলেন কেন?’ বিস্মিত বিচারকের প্রশ্ন ‘মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্য অবমাননাকর, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে’ নানুপুর মাদরাসার খতমে বুখারি ও দোয়া মাহফিল ১৬ জানুয়ারি ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল পিকআপ ভ্যান, দুই ভাইসহ নিহত ৩ ‘নিকাব নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে মোশাররফ ঠাকুরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’ ভারতে পৌঁছালেন তালেবান-নিযুক্ত প্রথম কূটনীতিক, দিল্লি দূতাবাসে তোড়জোড়

এবারের মেলায় সাড়ে চার হাজার নতুন বই বিক্রি হলো ৭০ কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম 

নিভে গেল আলো, শেষ হলো মেলা। পেছনে পড়ে থাকল ২৮ দিনের আড্ডার স্মৃতি। চার সপ্তাহের অমর একুশে গ্রন্থমেলা এবার ভেঙেছে অতীতের সব রেকর্ড। সর্বোচ্চ পরিসর যাত্রা শুরু করা মেলায় বাংলা একাডেমির হিসাব মতে, ৭০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে।

আর নতুন বই প্রকাশের ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। এবার সাড়ে চার হাজার নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে; যা গতবারের তুলনায় প্রায় এক হাজার বেশি। মেলায় প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত ছিল পাঠকের উপচেপড়া ভিড়। আর ভিড়ের সঙ্গে ছিল দারুণ বিক্রিও।

গতকাল রাত ৯টায় স্টলগুলোর আলো নিভিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আবারও এগারো মাসের অপেক্ষা শুরু হয় বইপ্রেমীদের।

এবারের মেলায় ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং গতকালের সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করে বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, মোট ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় ৫ কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা একাডেমি মোট ১ কোটি ৫১ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছে।

সমাপনী আয়োজনে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবের বক্তব্যে ড. জালাল আহমেদ বলেন, এবারের মেলায় একাডেমি ও উদ্যান মিলে রেকর্ডসংখ্যক অর্থাৎ ৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১৯টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ২৫টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ১৩৬টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এবারের মেলায় মেলার নীতিমালা ও নিয়মাবলি লঙ্ঘন করায় টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে একটি বই জব্দ করা হয়। এবারের মেলার সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে আরও সুন্দর মেলা করতে চাই বলে আমরা এবারের সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করতে চাই।

সমাপনী অনুষ্ঠানে গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। এ বছর বিভিন্ন গুণীজনের নামে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮, ২০১৭ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য অলকানন্দা প্যাটেলের ‘পৃথিবীর পথে হেঁটে’ গ্রন্থের জন্য বেঙ্গল পাবলিকেশন্‌স, সুফি মুস্তাফিজুর রহমানের ‘বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক উত্তরাধিকার’ গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্‌স এবং মঈন আহমেদ সম্পাদিত ‘মিনি বিশ্বকোষ পাখি’ গ্রন্থের জন্য সময় প্রকাশনকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮, ২০১৭ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮ এবং ২০১৮ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘কথাপ্রকাশ’কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮ দেওয়া হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব মো. ইব্রাহীম হোসেন খান।

ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ