যিয়াদ বিন সাইদ: দূরত্বমা। সাজু দা'র সুবর্ণকমল প্রচ্ছদে প্রেমিকার ম্লানমুখ দেখে আমাদের বইয়ের পাতা ওল্টাতে হলো। এবার খুলে দেখবো কেমন নক্ষত্রের বসবাস এখানে। কেমন করে জ্বলজ্বল করছে ধ্রুপদী তারকারা। পৃষ্ঠা ওল্টাতে গিয়ে শুরুতেই আপনাকে একটু স্থির হয়ে দাঁড়াতে হবে।
মানুষের সর্বদিক থেকে গল্পেরা কীভাবে মানুষকে আঁকড়ে রেখেছে তা নিয়ে ভাবতে হবে। গল্পকে আপনি তাড়িয়ে বেড়ালেও গল্প আপনার পিছু পিছু চলবে। ক্রমাগত। নিরলস। সমগ্র মুখে তরুণত্বের ছায়ায় আবৃত এ রাকিব আল হাসান অঙ্কুরেই গল্প কিংবা গল্পের মাহাত্ম্যকথা আপনার হৃদয়ে সুনিপুণ ভাবে মেলে ধরতে সক্ষম হবে।
তরুণ রাকিব আল হাসানের ৭২ পৃষ্ঠার এ বইটিতে রয়েছে বিশটিরও বেশি গল্প। এবং প্রতিটি গল্পের রয়েছে হৃদয়ে আনন্দ দেয়া সুন্দর সুন্দর শিরোনাম। প্রতিটি গল্প আমি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়তে চেষ্টা করেছি। অচেনা এ রাকিব আল হাসানকে চিনতে চেয়েই পরম নিবিষ্টমনে গল্পগুলো আমি পড়েছি।
মূলত দূরত্বমা বইটি মানুষের জীবনে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে থাকা 'প্রেম' নিয়ে লেখা হয়েছে। গল্পগুলোর মূল উপজীব্য বিষয়ই হচ্ছে প্রেম। এবং প্রতিটি প্রেম ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে। ভিন্ন ভিন্ন সুরে। বেশিরভাগ আগে না দেখা। নতুন কিছু পাবার সুখ আমাকে যেমনি আনন্দ দিয়েছে ঠিক আপনাকেও আনন্দ দেবে নিশ্চয়।
বাস্তবিক জীবনে পৃথিবীর অধিকাংশ প্রেমিক অথবা প্রেমিকা; দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। হৃদয়ের অব্যক্ত কালাম মুখ ফুটে বলতে পারেনা। দেখা যায় না বলাই রয়ে যায় শেষ অব্ধি। হৃদয়ে জ্বলন সৃষ্টি করবার মত এ বিষয়টিই রাকিব আল হাসানের 'দূরত্বমা'র প্রথম গল্পে আমি পষ্ট দেখতে পেয়েছি। আমি নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে চেয়েছি। ভাবতে চেষ্টা করেছি। হ্যাঁ হ্যাঁ।
আমাদের জীবনটা ঠিক এমনই। প্রেমেজর্জর এ গল্পটি পড়বার পর আমি আরও আগ্রহী হলাম। আরও। প্রচণ্ড ব্যগ্রতার সাথে পৃষ্ঠা উল্টিয়ে গেলাম। ক্রমাগত।
একটু এগুলেই আরও আকর্ষণ সৃষ্টি হলো আমার। হসপিটালে মানুষের ব্যস্ত সময়। হুড়োহুড়ি। এরই মধ্যে কারো কারো কখনওবা জেগে উঠতে পারে পুরোনো প্রেম। ওই যে চেম্বারে বসে থাকা লামিয়া। খ্যাতির মাকাল ধরে শীর্ষে পৌঁছে যাওয়া এ চিকিৎসক হয়তোবা কখনো লেখক রাকিব আল হাসানকে মোহিত করেছিলো।
প্রেমের শরাব গিলে দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর আবার তাকে কাছে পেয়েও কেমন ভীতসন্ত্রস্ত হৃদয়। হৃদয়ে রিনরিন করে বাজতে থাকা এ প্রেমসংগীত আমাকে আনন্দই দিয়েছে।
প্রেম যে মানুষের হৃদয়কে কতটা ব্যগ্র করতে পারে এবং কতটা উতলা করতে পারে এরই বাস্তব এক রূপের দেখা পেলা