আওয়ার ইসলাম: ভারতীয় রাষ্ট্রের ইতিবৃত্তের প্রত্যেক দশকই কোনও না কোনও ভাবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষে ক্ষতবিক্ষত।
ঘটনাই তো দিনটিকে দাগায়, দৈনন্দিনতার কোনও এক বিশেষ সামূহিক অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে ঐতিহাসিক, দিনপঞ্জির পাতায় দিনটি ফিরে এলেই ঘটনাটি ভেসে ওঠে, ভাবি লিখি আর শিরোনাম বসাই ‘ফিরে দেখা’।
বছর বছরে সময় বয়ে চলে, ঘটনাটির টান থাকে। ওই টানের জোরেই বর্তমানের সংস্কারে অতীতটি গেঁড়ে বসে, এখনকার সময়ের গায়ে তখনকার সময়টি টনটন করে ওঠে। ১৫ অগস্ট ১৯৪৭, ৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮ বা ৬ ডিসেম্বর ১৯৯২, একেবারে ওই টানাটানির দাগ, সময়ের দাগে হাত পড়লে আজও অনুভূতিগুলির শিরশিরানি চাগাড় দিয়ে ওঠে।
ফিরে দেখার মুশকিল একটাই। কতটা এ কালের প্রক্ষেপ আর কতটাই তৎকালীন, বিচার করব কী করে? স্মৃতি প্রতারণা করে, কোনও আর্কাইভ একেবারে নিঃসংশয়ী নয়, আর প্রেক্ষিতের পার্থক্য তো থেকেই যায়।
তবে ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বরের ঘটনাটি নিয়ে সংশয় নেই। দিনেদুপুরে অযোধ্যা বা ফৈজাবাদে একটি মোগলাই মসজিদ শ্রীরামের নামে এক দল করসেবক ভেঙে ফেলল, ঠুঁটো জগন্নাথের মতো সরকার বসে দেখল, আডবাণীর মতো জাতীয় নেতারা অকুস্থলে উপস্থিত থেকেও নীরব থাকলেন, উমা ভারতীর মতো উঠতি নেতারা জিগির তুলে সরাসরি ধ্বংসে মদত দিলেন।
এই ইমারতি ধ্বংসকার্যের ছবিই তো ভারতীয় রাজনীতির একটি বহুল প্রচারিত পোস্টার। গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ছবিটি ফিরে ফিরে তুলে ধরা হয়। গুঁড়িয়ে দেওয়া মসজিদের জায়গাটি ফাঁকা এখনও আছে, ওই রাম জন্মভূমিতে রামলালার মন্দির করতে হবে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত বলে দিয়েছেন যে, সামনের বছরের মধ্যেই মন্দির উঠে যাবে। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকার হিন্দুত্বের সুপবন জোতদার, অতএব সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে থাকা মামলা মিটিয়ে ফেলে রাম মন্দির তোলাটা শুধু একটু সময়ের ওয়াস্তা।
২০১৮-র ডিসেম্বরের মধ্যেই বাবরি মসজিদ ধ্বংসের কাজ রাম মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটনেই উদ্যাপিত হবে, মোহন ভাগবত এ হেন আশ্বাস দিয়েছেন। মসজিদ ধ্বংস তো মন্দির নির্মাণের জন্যই। এক প্রত্ন-ইতিহাসের বস্তু সাক্ষ্যের পরিবর্তে কৌম ইতিহাসের বানিয়ে তোলা নিদর্শনকে বসানোর রাজনীতি ৬ ডিসেম্বর তারিখটিকে যেন স্মৃতির বুড়ি হিসাবে দাগিয়ে দিয়েছে।

৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ আদৌ আকস্মিক নয়, প্রস্তুতি ছিল। অষ্টাদশ শতক থেকেই রামায়েতপন্থী সম্প্রদায়ের উত্থà