শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ ।। ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৯ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
‘লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ব্যতীত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়’ বর্তমান সমাজে বিয়েকে ক্রমেই কঠিন করে তোলা হচ্ছে কালভার্ট নির্মাণকালে মাটিচাপা পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু আগস্টের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ড্রেস ও জুতা বিতরণ শুরু করবে সরকার: ববি হাজ্জাজ আগামী ৭ জুন রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ পুলিশ কর্মকর্তা হজ-পরবর্তী জীবনে পরিবর্তন না এলে হজের শিক্ষা অপূর্ণ: শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবাধিকার প্রশ্নে কোনো আপস করা উচিত নয়’ ৩ জেলায় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার

হাওরাঞ্চলের ছয় জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৮ লাখ পরিবার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হাওরাঞ্চলের ছয় জেলায় বন্যায় মোট দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আট লাখ ৫০ হাজার ৮৮টি পরিবার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাওর এলাকা পরিদর্শনে যাওয়ার আগে শুক্রবার হাওর পরিস্থিতি নিয়ে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির বৈঠকে ক্ষয়ক্ষতির হালনাগাদ এ তথ্য তুলে ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ওই বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য সচিব ও মন্ত্রণালয়ের যুগ্ন সচিব মোহাম্মদ মহসীন হালনাগাদ তথ্য সাংবাদিকদের সামনেও তুলে ধরেন।

গতমাসের শেষ দিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা তালিয়ে যায়। বোরো ধান কাটার এই মওসুমে হঠাৎ এই বন্যায় লাখ লাখ কৃষকের মাথায় হাত পড়ে। এরপর পানি বিষাক্ত হলে মাছ মরা শুরু হয়; তারপর মরতে থাকে হাঁস।

পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিনিধি দল ওই এলাকা ঘুরে পানি পরীক্ষা করে বলে, প্রাথমিকভাবে ইউরেনিয়াম তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।
ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের দুই হাজার ৮৬০টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১৫ হাজার ৩৪৫টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ছয় জেলায় মোট ২১৩ দশমিক ৯৫ মেট্রিক টন মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে; সুনামগঞ্জে তিন হাজার ৯০২টি হাঁস ও চারটি মহিষ মারা গেছে।

ছয় জেলার ক্ষতির বিবরণ

জেলা

ক্ষতিগ্রস্তউপজেলারসংখ্যা

ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন সংখ্যা

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা

সম্পূর্ণক্ষতিগ্রস্ত জমি

(হেক্টর)

সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি

আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি

সুনামগঞ্জ

১১

৮৮

১,৭২,৬১৭

১,০২,৪৩৬

২৬০০

১৫০০০

সিলেট

১৩

১০৫

২,১২,৫৭০

২৬,৭১৫

২০

১০

নেত্রকোণা

১০

৮৬

১,৬৭,১৮০

১৯,৫৬৬

-

-

কিশোরগঞ্জ

১৩

৫৬

১,৪৮,৬৮৭

৪৫,২৫৬

-

-

হবিগঞ্জ

০৮

৬৪

৭৪,৪৪০

১৫,৯৫৩

৪৬

৫১

মৌলভীবাজার

০৭

৬০

৭৪,৫৯৪

৯,৯১৪

১৯৪

২৮৪

মোট

৬২

৫১৮

৮,৫০,০৮৮

২,১৯,৮৪০

২৮৬০

১৫,৩৪৫

 

মৎস্য সম্পদের ক্ষতির চিত্র

জেলা

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার সংখ্যা

ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের সংখ্যা

মৎস্য সম্পদের ক্ষতি (মে. টন)

সুনামগঞ্জ

১১

২৩

৪৯.৭৫

সিলেট

২১

নেত্রকোণা

১৪

১১৮.৮২

কিশোরগঞ্জ

হবিগঞ্জ

মৌলভীবাজার

২৫

সর্বমোট

২০

৪৬

২১৩.৯৫

ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের দুই হাজার ৮৬০টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১৫ হাজার ৩৪৫টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া এই ছয় জেলায় মোট ২১৩ দশমিক ৯৫ মেট্রিক টন মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে তিন হাজার ৯০২টি হাঁস ও চারটি মহিষ মারা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত মাসের শেষ দিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা তালিয়ে যায়। এই বন্যায় লাখ লাখ কৃষকের মাথায় হাত পড়ে। এরপর পানি বিষাক্ত হলে মাছ মরা শুরু হয়; তারপর মরতে থাকে হাঁস। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রতিনিধি দল ওই এলাকা ঘুরে পানি পরীক্ষা করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ইউরেনিয়াম তেজস্ক্রিয়তার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।

লোক দেখানো ত্রাণ নয়; হাওরবাসীকে বিনাসুদে ঋণ দিন


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ