বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬ ।। ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১৮ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ঢাকা মহানগরীতে দিনের বেলায় ২ শিফটে বর্জ্য পরিষ্কারের নির্দেশ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন কর্মসূচি বেফাকের ১২২ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল দ্বীনি চেতনা পরিষদ মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা: বাড়ছে তেলের দাম অবহেলায় মায়ের মৃত্যু, শাস্তির মুখে সেই যুগ্ম সচিব কিশোরগঞ্জে খেলাফত ছাত্র মজলিসে যোগ দিলেন ৩৬ শিক্ষার্থী শাহজালালে ১৫০ হাজির লাগেজ কাটার অভিযোগ, তদন্তে কর্তৃপক্ষ রুমিন ফারহানার মন্তব্যের নিন্দা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউরোপের বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনজীবনে নতুন সংকট তৈরি করবে: খেলাফত মজলিস গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সর্বপ্রথম রাজপথে নেমেছি আমরা: আমিরে মজলিস

উৎসবমুখর এক আনন্দ ভ্রমণ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

lekhok_foram3

মোস্তফা ওয়াদুদ
বিশেষ প্রতিবেদক

কুয়াশার চাদর মুড়ি দেয়া প্রকৃতি তখনও কাটেনি। গোমট অন্ধকারাচ্ছন্ন আকাশ আভা ছাড়েনি। স্বচ্ছ পৃথিবী জ্যোৎস্না জ্বালেনি তখনও। পূবাকাশে সূর্যিমামা উঁকি দেয়নি। কাক ডাকা ভোরে একদল উদ্দীপ্ত তরুণ, উদ্যোমি ও কর্মঠ টগবগে যুবক, একদল লেখক, গবেষক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক ছুটে চলেছি প্রকৃতি ভ্রমণে। জাতীয় উদ্যান গাজীপুরে। আমাদের শ্লোগান,
‘প্রকৃতি বই নিত্যদিনই দিচ্ছে নতুন পাঠ
পাঠে পাঠে উর্বরা হয় সবার জ্ঞানের মাঠ’

নিজেদের জ্ঞানকে আরো সমৃদ্ধ করতে, লেখার পাথেয় জোগাতে সর্বোপরি প্রকৃতির নির্মল, সরস বায়ূ আহরণে আমরা চলছি প্রকৃতি ভ্রমণে।

বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের উদ্যোগে ও ফোরাম সদস্যদের সহযোগিতায় এ আনন্দ ভ্রমণের আয়োজন করা হয়।

যেভাবে শুরু: লেখক ফোরামের জন্মই হয়েছে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য। সবাইকে নিয়ে একসাথে সাহিত্য বিপ্লবের জন্য। লেখালেখির জন্য চাই আনন্দ। প্রকৃতি ভ্রমণ ও ফ্রেশ-স্বচ্ছ হৃদয়। তাই মনে প্রশান্তি আনতে ও অন্তরে শান্তির আবেশ ছড়াতে আয়োজন করা হয় এ উদ্যোগের। প্রত্যুষবেলায় পল্টনে ছুটে যান লেখক ফোরামের কর্তৃপক্ষ। কুয়াশাভরা কম্বল গাঁয়ে লেখক ফোরাম সদস্যগণ ছুটে আসতে থাকেন। দুটি ভাগে ভাগ করা হয় সদস্যদের । দ্বিতীয় বাসটি ছিলো মহাখালীতে। এদিকের সদস্যরা ছুটে আসতে থাকেন একে একে। নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই চলে আসে বাস। সবাইকে পরিবেশন করা হয় সকালে নাস্তা। শুকনো পাউরুটি, একপিছ সিদ্ধ ডিম, একপিছ কলা ও পানি। তারপর গাড়ী ছুটে চলে গন্তব্যের পাণে। দুটি বাস একসঙ্গে ছাড়ে। মোট সদস্য ৯২ জন। গাড়ির ভেতরে থাকা সাউন্ড বক্সটি বেজে উঠে। মাইক্রোফোন হাতে একজন বলে যাচ্ছেন, আমরা ইতিমধ্যে দুটি বাসকে পেছনে ফেললাম। আরো একটি ট্রাককে ওভারটেক করলাম। পেছনে পড়ে গেলো আরো দুটি কার। আমরা ছুটে চলছি সম্মুখ পানে।

কিছুক্ষণ পরপর ছড়াকারদের ছড়া পরিবেশন আর কবিদের আবৃত্তি আমাদের মুগ্ধ করে চলছিলো। গাড়িতে থাকা আমরা কখনও শ্রোতা, আবার কখনো বক্তার ভূমিকা পালন করছিলাম। মূহুর্মূহু আঙ্গুল করতালি আর বাহ বাহ আওয়াজের ধ্বনিতে উপস্থিত সকলে আনন্দের আতিশায্যে হারিয়ে গিয়েছিলাম।

সকাল ১১ টায় আমরা পৌঁছে যাই আমাদের কাঙ্খিত স্থানে। সবুজে ঘেরা গভীর অরন্য আর বিভিন্ন জাতীর গাছগাছালি দুহাত ভরে আমাদের বরণ করে নেয়। ততক্ষণে সূর্য তার দ্যুতি জ্বালিয়ে তেজস্বীরুপে আবির্ভূত হয়েছে। স্বচ্ছ আকাশে পাখি উড়ছে। বর্ণিল সাজে সেজেছে পকৃতির রুপ। দখিনা বাতাস সুর করে বাঁজছে। নানারকম গাছগাছালি অর্ধবয়সী শ্যামল পাতাগুলো বাতাসের প্রবাহে রিনিঝিনি নাচছে। আহ! কী মধুর সে শব্দ। কী মধুর সে সুর। কি সুবাময় সে বাঁজনা। কী অপরুপ সে দৃশ্য। কী মুগ্ধকরা প্রকৃতির সে খেলা। আজ আনন্দের নগরে আমরা প্রবেশ করেছি। আনন্দের ফুল্গুধারায় হারিয়ে গিয়েছি।

সেখানে পৌঁছে আমাকে ও উবায়দুল হক খানকে খাবারের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়। এদিকে ফোরাম সদস্যরা মেতে উঠে মহানন্দে। আয়োজন করা বিভিন্ন স্টাইলের প্রতিযোগিতার। এর মাঝে বস্তা দৌড় ও পাতিল ভাঙ্গার পর্ব ছিলো শুরুতে। বেশ রসীকপূর্ণ ও মজার একটি অনুষ্ঠান ছিলো এটি। কয়েকজন প্রতিযোগীকে বাছাই করা হয়। তারা নিজেদের পাকে বস্তায় ঢুকিয়ে দৌড় দেন। সবার আগে যিনি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে পারবেন তিনি হবে প্রথম। এভাবে বাকি দুজনকে নির্বাচন করেন বিচারকমন্ডলী।

পাতিল ভাঙ্গার খেলাটা ছিলো আরো মজার। চোখে রুমাল বেঁধে নির্দিষ্ট স্থানে থাকা পাতিলটি ভাঙ্গতে হবে। যিনি প্রথমে ভাঙ্গবেন তিনিই প্রথম হবেন। বাকী দুজন এভাবেই বিজয়ী হয়েছেন।

এরপর ছিলো ফুটবল ও ক্রিকেট খেলা। দুদলে বিভক্ত হয়ে যান লেখকবৃন্দ। তারপর খেলা শেষ হয় জোহরের পূর্বেই। বাদ জোহর খাবার পর্ব শেষে আয়োজিত হয় সেমিনার। দুগাছকে দেয়াল বানিয়ে সাটানো হয় লেখক ফোরামের ব্যানার। বেজে উঠে মাইক্রোফোন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন লেখক ফোরামের বান্ধা পরিচালকবৃন্দ। শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয় ‘যেমন খুশি তেমন বলো’। দশজন প্রতিযোগী তাদের নির্ধারিত বিষয়ে পারফর্মেন্স করে। বিজয়ী হয় তিনজন। এরপর ‘রঙ্গে ভরা সাধারণ জ্ঞান’ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ছয়জন প্রতিযোগী। সবাইকে যোগ্যতার ভিত্তিতে পুরস্কৃত করা হয়। সর্বশেষ ‘ডে অব দ্যা হিরো’ তে ফোরাম সভাপতি সবাইকে বেশ আনন্দই দেন।

Image may contain: 3 people, people standing, tree, outdoor and nature

সর্বশেষ অতিথি, আয়োজক ও সদস্যদের বক্তব্য এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। নাম নিবন্ধনকৃত সব সদস্যদের দেয়া হয় ক্রেস্ট। তারপর গ্রুপ ফটোর মাধ্যমে শেষ হয় সাহিত্য ও আনন্দ ভ্রমণ।

অনুষ্ঠান শেষে আছরের নামাজ আদায় করা হয়। বিকাল ৫ টায় আমরা আবার চেপে বসি গাড়িতে। পিপ পিপ হুইসেল দিয়ে গাড়ি ছুটে চলে গন্তব্য পাণে। আমরা ক্লান্ত দেহে ফিরে যাই নীড়ে।

সারাদিনের কর্মযজ্ঞের পেছনে ছিলেন বাংলাদেশ ইসলাম লেখক ফোরামের সভাপতি মুফতি এনায়েতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন বাবরসহ মাসউদুল কাদির, গাজী মুহাম্মদ সানাউল্লাহ, মুনীরুল ইসলাম, কাজী আবুল কালাম সিদ্দিক, আবদুল গাফফার, আবদুল মুমিন, রোকন রাইয়ান, মোহাম্মদ তাসনিম, সাদ আবদুল্লাহ মামুন, এমদাদুল হক তাসনিমসহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানে ফোরামের নির্বাহী কমিটি ও সাধারণ সদস্য ছাড়াও ভ্রমণে আকর্ষণ বাড়িয়েছেন বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন, মাকতাবাতুল আযহারের সত্ত্বাধিকারী মাওলানা উবায়দুল্লাহ আযহারী, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম সম্পাদক হুমায়ুন আইয়ুব, লেখক ও গবেষক ড. ইমতিয়াজ মাহতাব, মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, সৈয়দ শামসুল হুদা, শরীফ আনিসুর রহমান, মাওলানা খুরশিদ আলম, আতাউর রহমান খসরু, আবদুল্লাহ আল ফারুক, তাজুল ইসলাম জালালী, খন্দকার মুজাম্মিল হক, মুহাম্মদ হারুনুর রশীদ, সাঈদ কাদির, ওমর ফারুক মাসরুর, আবু বকর সিদ্দিক জাবের, সাংবাদিক জিয়া হক ও বোরহান উদ্দীন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম

lekhok4


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ