শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিসেস্তার মাউন্ট বারবারো: ইতিহাসের সাক্ষী প্রাচীন মসজিদ শৈশবের বিশ্বাসের সঙ্গে ইসলামের মিল, মুসলিম হলেন মার্কিন তরুণী ফেনীতে ‘খেলাফতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মাদরাসার বৃত্তি পরীক্ষা: কেন্দ্রসচিবদের জন্য বোর্ডের ১৪ নির্দেশনা মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে আজ জুমা পড়াবেন যাঁরা ‘কওমি সিলেবাসের মৌলিকত্ব ঠিক রেখে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা দরকার’ দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতি পেলেন মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বাংলাদেশের হজ কোটা বাড়ল আরও ৫ হাজার, মোট ৮৩ হাজার ৫০০ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর, পরীক্ষা ৫ ডিসেম্বর হেরা গুহার আলো

হাসপাতালে দিনরাত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

khanসময় দুপুর তিনটা। কাঠফাটা রোদ উত্তাপ ছড়ানোর কথা থাকলেও তখন মাথার উপর সূর্যের দেখা নেই। চারদিকে ছেয়ে আছে অন্ধকার। আকাশজুড়ে জমে ধাকা মেঘগুলো নামবে নামবে করছে। ঠিক এমন সময় আমার বের হতে হলো। রিকশায় চড়তেই শুরু হলো বৃষ্টি। ঝিরঝির বৃষ্টি আর প্রবল বাতাস উপেক্ষা করে আমি চলছি।

গন্তব্য কাকরাইল ইসলামি ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল। যেখানে শুয়ে আছেন জামানার কিংবদন্তি। বাংলা সাহিত্যের মুকুটহীন স¤্রাট মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। পঞ্চাশের দশক থেকে যিনি নিজের সবটুকু মেধা, শ্রম ও আন্তরিকতা দিয়ে ইসলামের খেদমত করেছেন। ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা চিত্র আরবি ও উর্দু থেকে বাংলায় রূপান্তর করে বাংলা ভাষী লক্ষ কোটি মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন।

আজ তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ। কিডনীতে সমস্যা, শ্বাসকষ্ট ও বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও অনেক আগেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন । অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালেই থাকতেন। গত কয়েক বছরে তিনি কোন সভা সমাবেশে যোগ দেননি। দুএকটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার চেষ্টা করা হলেও পুলিশি বাধার কারণে যেতে পারেননি। এই সময়টাতে ঘরের চেয়ে তিনি হয়তো হাসপাতালেই বেশি থেকেছেন। কখনো শমরিতা, কখনো বারডেম অথবা সেন্ট্রাল হাসপাতাল, এভাবেই তার সময় কেটেছে।

এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে তিনি হটাৎ খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পরেন। বারডেমে ভর্তি করা হলে ডাক্তাররা দ্রুত তাকে আইসিইউতে শিফট করেন। সেখানে মাস খানেক চিকিৎসা গ্রহণের পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। আইসিইউ থেকে বের হয়ে আসেন। কিন্তু আরও একটু সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরার চিন্তা করে ভর্তি করা হয় কাকরাইল ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে ভর্তি করার পর অবস্থা দিনদিন অবনতির দিকে যেতে থাকে। ১৭ ই মে মারাত্মক শ্বাস কষ্ট শুরু হলে ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। সেই থেকে আজ অবধি তিনি লাইফ সার্পোটে আছেন।

দুই.
আমি হাসপাতাল পৌছতেই লিফটের সামনে দেখা হলো হুজুরের ছোট সাহেবজাদাহ, মাসিক মদিনার সহকারি সম্পাদক আহমদ বদরুদ্দীন খানের সাথে। এক সাথেই উপরে উঠলাম। খান সাহেব আছেন এগারো তলায় অবস্থিত আইসিইউতে। আমরা গেলাম বারো তলার ওয়েটিং রুমে। সেখানে আগে থেকেই ছিলেন হুজুরের মেঝ ছেলে মুর্তজা বশিরুদ্দীন খান। তিনি তখন ঘুমাচ্ছিলেন।khan2

তিনি ঘুম থেকে উঠলে তারপর হুজুরকে দেখতে যাবো এই চিন্তা করে আমরা একটু বসেছি। কিন্তু হুজুরের ছেলে আহমদ খান বারবার দেখতে যাচ্ছেন মেঝ ভাই ঘুম থেকে উঠলো কিনা। বুঝতে পারলাম, তিনি বাবাকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে আছেন। বললেন, আইসিইউতে এপ্রোন পরে যেতে হয়, আর এপ্রোন মেঝ ভাই এর কাছে, তিনি তো ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু আব্বাকে না দেখে আমার ভাল্লাগছে না। আপনি একটু বসুন, আমি আব্বাকে এক নজর à¦