শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২২ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
শিক্ষা সফরে যাওয়ার পথে বাস পুকুরে পড়ে শিক্ষিকাসহ নিহত ২, আহত ৩০ গাজায় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ২৫০ যুগলের গণবিয়ে জামায়াতের ইসলাম আমাদের ইসলাম নয়: হেফাজত আমির বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় জাতীয় ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওমরাহযাত্রার আগে বিমানবন্দরে ইহরাম অবস্থায় তুর্কি ইমামের মৃত্যু এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ফি নিয়ে বোর্ডের জরুরি নির্দেশনা মানুষদের ভ্রান্ত মতবাদ থেকে রক্ষার দায়িত্ব আলেমদের: দেওবন্দের মুহতামিম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি চায় কাতার সচেতন আহলে সুন্নাত ফেডারেশনের ১৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে গুণীজন সংবর্ধনা

চিন্তাশক্তি ও স্মৃতি দুর্বল করতে পারে এআই: এমআইটি গবেষণা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

চ্যাটজিপিটি ও এ ধরনের জেনারেটিভ এআই টুল লেখার শুরুতেই ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) সাম্প্রতিক গবেষণায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা লেখার শুরুতেই চ্যাটজিপিটির মতো এআই ব্যবহার করেন, তাদের মস্তিষ্কের ‘ফ্রন্টাল-প্যারিয়েটাল’ অংশের সংযোগ কার্যক্রম কমে যায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতি গঠনে ব্যাঘাত ঘটে এবং নতুন ধারণা তৈরি ও বিশ্লেষণ করার সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

‘ইওর ব্রেইন অন চ্যাটজিপিটি: অ্যাকুমুলেশন অফ কগনিটিভ ডেট হোয়েন ইউজিং অ্যান এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ফর এসে রাইটিং টাস্ক’ শিরোনামের এই গবেষণায় ৫৪ জন শিক্ষার্থীর মস্তিষ্কে ইইজি (EEG) ডিভাইস লাগিয়ে চারটি ধাপে লেখার সময় পর্যবেক্ষণ চালানো হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, যারা শুরু থেকে নিজে চিন্তা করে লেখেন, তাদের মস্তিষ্ক ছিল সবচেয়ে সক্রিয়। আর যারা এআই দিয়ে শুরু করে পরে নিজের মতো করে লেখেন, তাদের মানসিক পরিশ্রম করার সক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়।

ডিউক ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ইনোভেশন’-এর নিউরোসায়েন্স গবেষক জিউন-টাইং ইয়েহ বলেন, “ঘণ্টার পর ঘণ্টা এআই ব্যবহারের ফলে আমাদের মনোযোগ, সৃজনশীলতা ও চিন্তা করার ধরনে পরিবর্তন আসছে।” তিনি আরও বলেন, এভাবে ‘কগনিটিভ ডেট’ তৈরি হচ্ছে, অর্থাৎ অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে মস্তিষ্ক নতুন তথ্য ধারণ ও বিশ্লেষণ করতে পারছে না।

গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে—যারা প্রথমে নিজে চিন্তা করে লিখেছেন, পরে তা এআইয়ের সাহায্যে সম্পাদনা করেছেন, তারা সবচেয়ে ভালো স্মৃতিশক্তি ও বোধশক্তি প্রদর্শন করেছেন। এই শিক্ষার্থীদের ৭৮ শতাংশ তাদের লেখা হুবহু মনে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বিপরীতে, যারা শুরুতেই এআই ব্যবহার করেছেন, তাদের অনেকেই একটি বাক্যও স্মরণে রাখতে পারেননি।

গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি-৪ও মডেলে লেখা প্রবন্ধগুলো ভাষাগতভাবে ভালো হলেও সেখানে নতুন চিন্তা বা ব্যক্তিগত সৃজনশীলতার প্রভাব ছিল খুব কম। অনেক শিক্ষার্থী একই ধরনের কনটেন্টে বারবার ফিরে গেছেন।

গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, “শুধু লেখালেখিই নয়, কথা বলা, ছবি দেখা বা চিন্তা করাও—সব ক্ষেত্রেই এআই কেমন প্রভাব ফেলে তা আরও বিস্তৃতভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।”

গবেষকরা মনে করেন, জেনারেটিভ এআই মানুষের কাজ সহজ করতে পারে, তবে এটি শেখার প্রক্রিয়ার বিকল্প নয়। বরং নিজের মতো করে চিন্তা না করলে এবং শুরুতেই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হলে, শিক্ষার্থীদের শেখার দক্ষতা ও সৃজনশীলতা চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ