বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ ।। ২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :

পোশাকে ধার্মিক, চিন্তায় বিচ্যুতি!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ। ছবি: সংগৃহিত

|| মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ ||

আকিদা ও মেজাজ সঠিক করতে বলা হয় এজন্যই। অনেক পোশাকী দ্বীনদার (এবং নিজের বুঝমতো আন্তরিকও) ব্যক্তি, নেতা, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবীকে দেখা যায়, ইসলামের মৌলিক শিআর ও বৈশিষ্ট্যকে অপমান করছে। পর্দাকে অবজ্ঞা করছে, সুদ সম্পর্কে মুগ্ধতা প্রকাশ করছে, নারী পুরুষের অবৈধ সম্পর্ককে খুব স্বাভাবিক চোখে দেখছে, ইসলামের সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে অস্বীকার করছে, মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে প্রণামের ভঙ্গি করছে। সে আবার মসজিদেও যাচ্ছে, মাথায় টুপি আছে, মুখে দাঁড়ি আছে, পাঁচ বছর আগেই হজ্ব/ওমরা করে এসেছে!

মুসলিম সমাজে এই মিশ্র ও অবুঝ ক্যারেক্টারটা অনেক জটিল। সে শাহরিয়ার কবীর কিংবা তসলিমা নাসরিন না। এবং কেন জানি আমার মনে হয় তার আচরণ ও পোশাকে যতটুক ধর্ম আছে এটাও অনান্তরিক না। গন্ডগোল তার মাথায় চিন্তায় উপলব্ধিতে মেজাজে আকিদায়। এটাকেই ফিকরি ইরতিদাদ অথবা চিন্তাগত নাস্তিক্যবাদ বা ধর্মত্যাগ হিসেবে মনীষীরা আখ্যায়িত করে থাকেন।

একটা সময় পর্যন্ত এ সমস্যাটাকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী ও বামীয় সমস্যা মনে করা হতো। ২৪-এর জুলাই এর পর পরিবর্তিত রাজনীতিতে একদা 'ইসলামী মূল্যবোধ ও জাতীয়তাবাদে'র সমন্বিত সৈনিকদের অনেকের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। তাকে দেখলে মনে হয় ধার্মিক, তিনি নিজেও নিজেকে ধার্মিক মনে করেন। কিন্তু চিন্তায়, বিশ্বাসে, চেতনায়, মেজাজে বাউন্ডারি ওয়াল পার হয়ে অনেক দূরে চলে গেছেন! এবং এ সমস্যাটা শুধু রাজনীতিকদের মধ্যে না, আধুনিক শিক্ষিত পোশাকি/প্র্যাকটিসিং ধার্মিক অনেক মানুষের মধ্যেই বিদ্যমান।

এটা একটা দুঃখ ও বিপর্যয়ের ঘটনা। তবে এ ঘটনা নতুন না। উপনিবেশ-উত্তর মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে এইরোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এটা বোঝার বিষয়, বুঝানোর বিষয়। একটা হচ্ছে আমল কম করা অথবা জরুরি আমল করতে না পারা। এটাকে বলা হয় গাফলত এবং গুনাহ। কিন্তু চিন্তাগত ও বিশ্বাসগত বিরোধ এবং দূরত্বটা মারাত্মক রোগ। নিঃসন্দেহে এই মহামারির সংশোধন ও চিকিৎসা না করা হলে অনেক বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের হেফাজত করুন।

লেখক: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, লেখক, আলোচক ও বিশ্লেষক


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ