মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
নবী রাসূলগণ দাওয়াত দিতেন। সেই নামে অনেকেই দাওয়াত দেবার দাবি করেন। গর্ব করে বলেন: "কোরআনের দাওয়াত নিয়ে যাচ্ছি অমুক স্থানে"!
কিন্তু আসলে আমারা নবীদের দাওয়াতী আখলাক কী গ্রহণ করতে পেরেছি?
গ্রামের অনেক মাদ্রাসা আছে। যেসব মাদ্রাসাগুলো বছরের বাৎসরিক মাহফিলে হওয়া কালেকশন এবং রমজানের বিশেষ কালেকশনে সারা বছর ব্যায় নির্বাহ করে থাকে।
স্বাভাবিকভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চায় এমন বক্তাকে আনতে যার নামে লোকসমাগম বেশি হবে। তাকে সামনে রেখে যেন মাদ্রাসার একটু কালেকশন বেশি হয়।
মূলত এ কারণে প্রতিষ্ঠানের অনেক মোখলেস পরিচালকেরা অনিচ্ছা সত্বেও বদ মেজাজী ভাইরাল বক্তাদের দাওয়াত দিয়ে থাকে।
আল্লামা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী দামাত বারাকাতুহুমকে আমি দেখেছি। যখনই হযরতকে বলা হয় যে, হযরত! মাদ্রাসার মাহফিল। এখন একটু কালেকশন হবে। আপনাকে নির্দিষ্ট সময় দিতে পারলাম না, একটু পরে দেব।
হযরত এতে মোটেও বিরক্ত হন না। বলেন "ঠিক আছে যদি মাদ্রাসার কালেকশন হয় তাহলে আমি দেরি করতে রাজি আছি।"
দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের প্রতি এরকম আন্তরিকতা এই মানুষটাকে আমাদের অন্তরের গভীরে জায়গা দিয়েছে।
বক্তাদের প্রতি অনুরোধ: অন্তত গ্রামের মাদ্রাসাগুলোর মাহফিল এর ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রাখুন। আল্লাহ তায়ালার কাছে হয়তো এ উসিলায় ক্ষমা পাবার মাধ্যম পেয়ে যেতে পারেন।
লেখক: পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
আরএইচ/