বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনায় আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি: অ্যাটর্নি জেনারেল সম্প্রীতির বন্ধনে ৪৫ বছর, নড়াইলে গা ঘেঁষে অবস্থান মসজিদ-মন্দিরের কুমিল্লায় বৃত্তি প্রদান ও আল্লামা নুরুল হক (রহ.)-এর স্মরণে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নবীগঞ্জে মাদানী পাঠাগারের উদ্যোগে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি আইএবি ঢাকা দক্ষিণের মহিলা ইউনিটের ২৩ সদস্যের কমিটি ঘোষণা জেদ্দা বিমানবন্দরের নর্থ টার্মিনালের ফ্লাইট স্থানান্তর, হজ-ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নির্দেশনা সেবার আলো মাওলানা সাজ্জাদ নোমানির নেতৃত্বে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নেতাদের বৈঠক দেশের ইসলামী স্কুলগুলো বড় আশীর্বাদ: মাসউদুল কাদির গণপিটুনি ও রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যু সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ: গাজী আতাউর রহমান

সাভারে মহিলা মাদরাসায় হামলা, আতঙ্কে ছাত্রী-অভিভাবক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরে হজরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বালিকা মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে নিখোঁজ এক ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে আসা বহিরাগতদের বিরুদ্ধে মাদরাসার আবাসিক ভবনের ফটক ভাঙার চেষ্টা এবং কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদরাসার আবাসিক ছাত্রী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অনাবাসিক ছাত্রীদের ছুটির সময় মারিয়া আক্তার লিমা (১২) নামের এক আবাসিক ছাত্রী নিরাপত্তাকর্মীর নজর এড়িয়ে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তার অভিভাবকদের জানানো হয়। অভিভাবকেরা মাদরাসায় এসে সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন। তবে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পরামর্শে ওই দিন সন্ধ্যার পর সাভার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ১১৫৬।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, নিখোঁজ ছাত্রীর বিষয়ে তদন্ত করতে পুলিশ মাদরাসায় আসে। তার সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত হন, মেয়েটি স্বেচ্ছায় মাদরাসা থেকে বের হয়েছে। সহপাঠীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আল আমিন নামের এক ছেলের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে ধারণা করা হয়।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, নিখোঁজ ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা গত ১৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে কয়েকজন সাংবাদিক ও ইউটিউবারকে সঙ্গে নিয়ে মাদরাসায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ জন বহিরাগতও ছিলেন। একপর্যায়ে তাঁরা মাদরাসার আবাসিক ভবনের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন পুরুষ শিক্ষককে মারধর করেন।

মাদরাসাটির আবাসিক ভবনে সাড়ে চার শতাধিক ছাত্রী থাকেন। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে কান্নাকাটি ও চিৎকার শুরু করেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও আশপাশের মাদরাসার অন্য শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সরু রাস্তায় সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন এবং তাদের গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের অনুরোধে সাংবাদিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মাদরাসা ও আশপাশের সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বহিরাগতদের দলবদ্ধভাবে প্রবেশ এবং আবাসিক ভবনের ফটকে ভাঙচুরের চিত্র পাওয়া গেছে। আবাসিক ছাত্রীদের নিরাপত্তা রক্ষায় হামলাকারীদের প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ওই দিন সন্ধ্যার পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের উপস্থিতিতে সাভার থানায় দুই পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সেখানে প্রথমে নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধান বের করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং এ কাজে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজ জানান, নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধানে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এ বিষয়ে ইতিবাচক খবর পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদরাসা ও আলেমদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটির পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। মাদরাসাটির অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমী বৃহত্তর ঢাকা জেলা উত্তর হেফাজতে ইসলামের সভাপতি হওয়ায় এ ঘটনায় কোনো ষড়যন্ত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনার পর মাদরাসার ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁরা মাদরাসা ও আবাসিক ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ