নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৭ সালের পবিত্র হজের প্রাথমিক নিবন্ধন চলছে। তবে নিবন্ধনে এখনো সাড়া মিলছে কম। এখন পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দুই হাজারের কিছু বেশি হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন। বাংলাদেশ থেকে এবার হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন ৭৮ হাজার ৫০০ জন। সে হিসাবে বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর কোটা এখনো খালি রয়েছে।
হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে এক মাসেরও বেশি আগে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিবন্ধনের সময় শেষ হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর আর নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হবে না। ফলে আগ্রহীদের হাতে নিবন্ধনের জন্য আছে দুই সপ্তাহের কিছু বেশি সময়।
প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীকে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। এর আগে প্রাক্-নিবন্ধনের জন্য ৩০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়।
প্রাথমিক নিবন্ধনের পর হজ প্যাকেজের বাকি টাকা আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ব্যবস্থাপনায় ই-হজ সিস্টেমের মাধ্যমে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেভাবে নিবন্ধন
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে আগ্রহীরা ই-হজ সিস্টেমে ইউজার তৈরি করে নিজেরাই নিবন্ধন করতে পারবেন। এ জন্য হজ পোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধন করা যাবে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা মডেল মসজিদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং ঢাকা হজ অফিস থেকেও নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক নিবন্ধনের টাকা সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় ভাউচারের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত অর্থ সংশ্লিষ্ট এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।
কোনো এজেন্সির ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্য হজ পোর্টালে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির প্রোফাইলে পাওয়া যাবে।
হজে যেতে আগ্রহীদের এমন পাসপোর্ট থাকতে হবে, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
প্রাথমিক নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীকে প্রশিক্ষণ ও টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন এবং পছন্দের হজ প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।
এবার ১৫ বছরের কম বয়সী কেউ হজে যেতে পারবেন না। একই সঙ্গে গুরুতর হৃদ্রোগ, ফুসফুস, লিভার বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, স্নায়ুবিক বা মানসিক রোগী এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজ পালনের জন্য অনুমোদিত হবেন না।
এ ছাড়া কেমোথেরাপি, বায়োলজিক্যাল থেরাপি বা রেডিওথেরাপি গ্রহণরত ক্যানসার রোগীরাও হজে যাওয়ার অনুমতি পাবেন না।
জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সক্রিয় সংক্রামক রোগ—যেমন যক্ষ্মা ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও হজে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
পাশাপাশি গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থায় থাকা নারীরা হজের ফিটনেস সনদ পাবেন না।
আইও/